সুন্দরবনের কুমির চুরির ঘটনায় মামলা


প্রকাশিত: ০২:০৫ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

দেশের একমাত্র কুমির প্রজনন কেন্দ্র  পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল থেকে ৪৩টি কুমিরের বাচ্চা চুরি ও হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ফরেস্টার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান রহমান বাদী হয়ে খুলনা জেলার দাকোপ থানায় বন্যপ্রাণী আইনে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বন বিভাগের বরখাস্ত বনকর্মী লস্কার মাহাবুব আলম ও অস্থায়ী কর্মচারী জাকির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও পরিকল্পিতভাবে প্রজনন কেন্দ্রের কুমির চুরি ও ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে নাশকতা চালিয়ে ৯টি কুমির মেরে ফেলাসহ বন্যপ্রাণীর ক্ষতি সাধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কুমির চুরি ও হত্যার ঘটনা অধিকতর তদন্তে বন বিভাগ তিন সদস্যের গঠিত তদন্ত  কমিটি শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। কুমির চুরি ও হত্যার ঘটনায় অন্যদিকে  তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও র্যা ব।

এদিকে, প্রজনন কেন্দ্রের ভেতর  থেকে ছয়টি মৃত কুমিরের বাচ্চা ও তিনটি কুমিরের বাচ্চার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাচার হওয়া অবশিষ্ট ৩৪টি কুমিরের বাচ্চা উদ্ধার হয়নি।

দাকোপ থানা পুলিশের উপ-পুরদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক জানান, করমজল প্রজনন কেন্দ্রের বরখাস্তকৃত লস্কার মাহাবুব আলম ও অস্থায়ী কর্মচারী জাকির হোসেন দুজনই বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কুমিরের বাচ্চা পাচারের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ৯টি কুমিরের বাচ্চা মেরে ফেলা পর্যন্ত হয়েছে।  

বন বিভাগের তদন্ত কমিটির প্রধান সুন্দরবনের চাদঁপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মেহেদীজ্জামান বলেন, শুক্রবার থেকে আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। তদন্ত শেষে রোববার পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে  প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১ ফেব্রুয়ারি করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের দুইটি প্যান (কৃত্রিম পুকুর) থেকে ৪৩ কুমিরের বাচ্চা চুরি বা পাচার হয়ে যায়। এ খবর পেয়ে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে বনকর্মী (লস্কার) মাহাবুব আলমকে সাময়িক বরখাস্ত  এবং  জাকির হোসেন নামে এক অস্থায়ী কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেন।

শওকত আলী বাবু/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।