২০ কিলোমিটারের পথ ঘুরতে হয় ১ হাজার কিলোমিটার


প্রকাশিত: ০২:৩৭ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা না থাকায় মাত্র ২০ কি.মি. পথ যাতায়াতের জন্য পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার কি.মি. পথ। সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও গেল ৪ বছরেও ইমিগ্রেশনের মুখ দেখেনি কুড়িগ্রামের বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

বন্দরটি চালুর পর পণ্য আমদানি শুরু হলেও ইমিগ্রেশন চালু না হওয়ায় লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী দিয়ে প্রায় ৫শ কি.মি. পথ ঘুরে যেতে হয় ভারতের আসাম রাজ্যের গোলকগঞ্জ বন্দরে। ফলে আর্থিক ক্ষতি, সময় ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

সোনাহাট ইমিগ্রেশন চালু হলে প্রায় ১০ কি.মি. পথ অতিক্রম করলেই ভারতের আসাম রাজ্যে যাওয়া যায়। ইমিগ্রেশন না থাকায় ক্ষতির দিক বিবেচনা করে অনেক ব্যবসায়ী মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য আমদানি শুরুর মধ্য দিয়ে দেশের ১৮তম স্থলবন্দর বঙ্গসোনাহাট চালু হয়। এতে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের ৪শ কি.মি এর স্থলে মাত্র ১০ কি.মি পথ পরিবহন করে পণ্য আমদানির সুযোগ ঘটে। এরফলে সংযোগ ঘটে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টারস খ্যাত রাজ্যগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। ফলে সড়ক পথে সৃষ্টি হয় দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার।

কিন্তু বন্দরটিতে ইমিগ্রেশন চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ভারত যেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সবসময়। লালমনিরহাট বুড়িমারি স্থলবন্দর দিয়ে ৪শ কি.মি. পথ ঘুরে যাওয়া-আসাতে আর্থিক এবং সময়ের ক্ষতিতে পড়তে হচ্ছে এখানকার ব্যবসায়ীদের। বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন চালু হলে পর্যটকরা অল্প সময়ে ও কম খরচে ভারতে যেতে পারবে। মাত্র ৩৫ কি.মি পথ পাড়ি দিলেই ভুটান যাওয়া যায়। এছাড়াও চিকিৎসা সুবিধা পাবে স্থানীয়রা।

Kurigram

আমদানিকারক মাসুদ আলম বলেন, বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরে পণ্য আনার জন্য ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আমাদের ভূরুঙ্গামারী থেকে বুড়িমারী প্রায় ২শ কি.মি. যেতে হয়। এরপর ভারতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, কোচবিহার, মাথাভাঙ্গা, হিন্দুস্থান, তুফসিগঞ্জ, বেঙ্গল, বকসীরহাট ও আসাম হয়ে গোলকগঞ্জ স্থলবন্দরে প্রায় ৪শ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয়। অথচ বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু হলে মাত্র ১০ কি.মি. পথ যেতে হবে। সরকার যে উদ্দেশে এই বন্দর চালু করেছে ইমিগ্রেশন চালু না হলে বন্দরের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

আমদানিকারক আব্দুস সবুর মন্ডল জানান, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে শিগগিরই ইমিগ্রেশন চালুর কথা বলেছেন। আমরা এ প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। স্থলবন্দরটিতে ইমিগ্রেশন চালু হলে আরো উন্নয়নের পাশাপাশি ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে এ জেলার মানুষদের।

কুড়িগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোশিয়নের সাধারণ সম্পাদক সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল জানান, হতদরিদ্র এ জেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে স্থলবন্দরের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু হলে সরকার পাবে রাজস্ব। সেইসঙ্গে সুযোগ হবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের। ফলে জেলার উন্নয়ন চিত্র পাল্টে যাবে।

এ ব্যাপারে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শিকদার গোলাম সারোয়ার জানান, এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশের কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন দ্রুত চালু হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নাজমুল হোসেন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।