রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে রাস্তার সরকারি গাছ


প্রকাশিত: ০৪:২৯ এএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তার সহযোগীদের দিয়ে রাস্তার সরকারি গাছ কাটানোর অভিযোগ উঠেছে। পরপর দুদিন গভীর রাতে রাস্তার চারটি ইউক্লিপটাস গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। তবে গাছ কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।

পুলিশ জানায়, উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের শিংঝাড় খাসীর ভিটা গ্রামের আজিজার রহমানের বাড়ির পাশে সরকারি রাস্তার দুটি বড় ইউক্লিপটাস গাছ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনের সহযোগী নুর হোসেন স্থানীয় কিছু ঘোড়ার গাড়িওয়ালা শ্রমিকদের দিয়ে কাটান।

এসময় স্থানীয় আব্দুর রশিদ মন্ডল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনছের আলীসহ অনেকে বাঁধা দিলে তারা চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছেন বলে জানান।

পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে গাছ জব্দের নির্দেশ দিলে সকালে গাছের কয়েকটি গুড়ি ইউপি ভবনের সামনে এনে রাখেন।

তবে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ঘোড়ার গাড়ি করে পরিষদে গাছ নিয়ে যাওয়ার সময় চেয়ারম্যানের নুর হোসেন চারটি গাছের গুড়ি পার্শ্ববর্তী দুটি স`মিলে পাঠান। বাকিগুলো পরিষদে রাখা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ঘটনার একদিন আগের রাতে ডিপেরহাট বাজারের উত্তর দিকে রাস্তার বড় দুটি ইউক্লিপটাস গাছ কেটে নেন নুর হোসেন। পরের গাছ দুটি স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোতালেবের কাছে মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে নিজে উপস্থিত থেকে পরিবহনের জন্য ঘোড়ার গাড়িসহ শ্রমিকদের কাটতে বলেন। ইউপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নুর হোসেন প্রায় সময় গাছ কাটেন এমন অভিযোগ করেন আনেকে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুস সালাম, সালাম মিয়া বলেন, রাতে গাছ কাটার সময় জনগণ বাধা দেয়ার খবর চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি নুর হোসেনকে ফোন দিয়ে ঝামেলা হয়েছে কিনা এবং হলে চকিদার পাঠাবে কিনা জানতে চাইলে নুর হোসেন বলেন `আমি একাই যথেষ্ট, কোনো সমস্যা নেই`। পরে পুলিশ আসলে সে ভেগে যায়।

জামিনুর মিয়া বলেন, নুর হোসেন কয়েকদিন আমাকে গাছ কাটার কথা বলেছে। আমি বলেছি সরকারি গাছ কাটা যাবে না। পরে পশ্চিম পাড়ার ঘোড়া গাড়ি ওয়ালাদের দিয়ে গাছ কাটান।

ঘোড়ার গাড়ি মালিক ও শ্রমিক জামাল মিয়া ও সের আলী বলেন, আমরা দনি করে দিন খাই। নুর হোসেন বলেছে আমরা পাঁচজনে গাছ কাটার পরে পরিষদে দিয়ে আসছি।
 
এ ব্যাপারে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত নুর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, কে বা কারা গাছ কেটেছে সেটা জানা যায়নি। গাছ আমার হেফাজতে আছে।

উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ঘটনা সত্য। এটি জেলা পরিষদের গাছ। বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। ইউএনও বিষয়টি দেখছেন।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠাই। পরে গাছ জব্দ করে চেয়ারম্যানের কাছে রাখা হয়েছে। তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাজমুল হোসেন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।