যশোরে এনজিও কর্মীদের ভয়ে কৃষকের আত্মহত্যা
স্ত্রীর নামে নেয়া ঋণ শোধে ব্যর্থ হয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার পোড়াবাড়ি গ্রামে শাজাহান (৪০) নামে এক কৃষক কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে তিনি নিজ বাড়িতে বিষপান করেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তিনি মারা যান।
শাজাহান শার্শা উপজেলার বেনাপোল বন্দর থানা এলাকার পোড়াবাড়ি গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে। তার স্ত্রী মুসলিমার নামে ৫-৬টি এনজিওর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ নেয়া ছিল।
মৃতের ভাই আলাউদ্দিন জানান, শাজাহান পেশায় কৃষক। তিনি জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন থেকে ৩০ হাজার টাকা, আশা থেকে ৪৫ হাজার, ব্র্যাক থেকে ৩০ হাজার, ঠেঙ্গামার সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) থেকে ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও আরো দু-তিনটি এনজিও থেকে টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।
এসব ঋণ ও সুদের টাকা আদায়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই এনজিও কর্মীরা তার বাড়ি আসতেন। কিন্তু শাজাহান প্রায়ই কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হতেন। তখন এনজিও কর্মীরা তাকে সবার সামনে বকাঝকা করতেন। এমনকি মাঝে-মধ্যে অপমান-অপদস্থও করতেন।
শাজাহানের স্ত্রী মুসলিমা জানান, গত সোমবার ব্র্যাকের কর্মীরা কিস্তি আদায় করতে তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু শাজাহান কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হন। এ সময় ব্র্যাকের কর্মীরা খুবই দুর্ব্যবহার করেন। তারা হুমকি দিয়ে যান, বুধবার এসে কিস্তি আদায় করেই ছাড়বেন।
‘কিন্তু বুধবার আসার আগেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাজাহান পাশের বাজার থেকে এক বোতল বিষ কিনে আনেন। রাত ৯টার দিকে নিজ ঘরে বিষ পান করেন। পরে পরিবারের লোকজন টের পেয়ে রাত ১০টার দিকে শাজাহানকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওই রাতেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার শাজাহান মারা যান।
বেনাপোল বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান, পোড়াবাড়ি গ্রামে এক ব্যক্তি কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে শুনেছেন। কিন্তু কী কারণে তিনি কীটনাশক পান করেছেন, তা পুলিশ জানতে পারেনি।
ব্র্যাকের ঝিকরগাছা এরিয়া ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন তার সংস্থা থেকে শাজাহান তার স্ত্রীর নামে গতমাসে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এক কিস্তিও পরিশোধ করেননি। জানতে চাইলে ব্র্যাক যশোর অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার শেখ আসাফুর রহমান বলেন, আমাদের মাঠকর্মীরা ঋণের কিস্তি আদায়ে কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন না।
মিলন রহমান/এমএএস/আরআইপি