ফুলবাড়ীতে পৈশাচিক নির্যাতনে যুবককে হত্যা
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে শহিদুল ইসলাম (৩৮) নামের এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করলেও মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজন পলাতক রয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার পূর্ব ফুলমতি ও গোরকমণ্ডল গ্রামে গিয়ে এ লোমহর্ষক ঘটনা জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত শহিদুল ইসলাম (৩৮) উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব ফুলমতি গ্রামের এরশাদ আলী গেতু মামুদের ছেলে। গোরকমণ্ডল এলাকার মাদক ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের ছেলে নুর হোসেন (৩১), মৃত আফছার আলীর ছেলে আজিজুল ইসলামসহ (৩৯) অজ্ঞাত আরও একজন বুধবার রাত ১০টার দিকে গোরকমণ্ডল এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অষ্ট প্রহর অনুষ্ঠান থেকে শহিদুলকে ধরলার চরাঞ্চলের ভুট্টা খেতে তুলে নিয়ে যায়।
দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে সেচ পাম্প চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালায় তারা। ঘাতকরা শহিদুলের হাঁটুর নিচে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করে। এতেও শহিদুল স্বীকারোক্তি না দিলে লোহার কাটিং প্লাস দিয়ে তার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি থেতলে দেয়। আঘাতের কারণে শহিদুল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ঘাতকরা তার মৃত্যু হয়েছে ভেবে চলে যায়।
পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন শহিদুলের গোঙরানির শব্দ পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মূমুর্ষূ অবস্থায় ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শহিদুল মারা যান।
হত্যার শিকার শহিদুলের বৃদ্ধা মা সুফিয়া বলেন, আমার ছেলেকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তারা নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
এনামুল, আতাউর, আনোয়ারসহ স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এ হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। যারা তাকে চোর বানানোর কথা বলে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন তারাতো চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী। হত্যাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করতে পারত না। এই নির্যাতন মধ্যযুগীও বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. এখতেখারুল ইসলাম জানান, শহিদুলের গায়ে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ফুলবাড়ী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এবিএম রেজাউল ইসলাম নির্যাতন করে শহিদুলকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আজিজুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নাজমুল হোসাইন/আরএআর/এমএস