প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে ঢুকে পড়া নারীকে ছেড়ে দিল পুলিশ


প্রকাশিত: ১০:৫৩ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

জনসভার ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তাকে লাফ দিয়ে জড়িয়ে ধরা নারী ফারহানা হায়দার মল্লিককে (৩৫) ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে চেড়ে দেয়া হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মীরা (এসএসএফ) তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল জানান, তিনি নিজে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তার পরিবারের বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। আসলে আবেগে এই কাজ করেছেন ওই নারী। ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না এমন প্রতিশ্রুতিতে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার সান্তাহার স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মঞ্চ থেকে নেমে আসেন। এ সময় হঠাৎ করে ফারহানা নামের ওই নারী লাফ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পা ধরেন।

মুহূর্তের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বাধা দেয় এবং আটক করে। প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে গাড়িতে ওঠার পর ওই নারীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আদমদীঘি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবীর জানান, ওই নারীকে আদমদীঘি থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারহানা পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ঢাকার ১৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ কর্মী।

তার স্বামীর বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাহারপুকুর এলাকায়। স্বামী হায়দার মল্লিক ঢাকা ও দুপচাঁচিয়া থাকেন। বাবার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকায়। তবে ওই নারী অনুষ্ঠানস্থলে সাধারণ গ্যালারিতে ছিলেন। তার কোনো নিরাপত্তা পাস ছিল না।

ওসি আরও জানান, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল থানায় উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। পরে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেয়া হয়। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ ও তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সান্তাহারে দুদিন আগে থেকে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সেই সঙ্গে জনসভার দুই কিলোমিটার এলাকায় গাড়ি রাখা বন্ধ করা হয়।

এছাড়া সভাস্থল ঘিরে চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তার জন্য তল্লাশি চকি বসানো হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও প্রবেশের সময় বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

এমনকি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুকেও দাঁড় করে রাখা হয়।

গতকাল রোববার দুপুর ১২টার মধ্যে যারা সভাস্থলে প্রবেশ করেছে তাদের খাবারসহ অন্যান্য কাজে সভাস্থল থেকে আর বাইরে আসতে দেয়া হয়নি। নিরাপত্তাকর্মীদের অধিক কড়াকড়ির কারণে অনেক সাংবাদিক বাইরে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুনেছেন।

এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।