পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগ চরমে, জনমনে ক্ষোভ


প্রকাশিত: ০৬:১১ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার চলমান পরিবহন ধর্মঘট তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে সাধারণ মানুষের। এতে জনমনে অস্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভের মাত্রা বেড়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে এমন গুজব ছড়ালেও রাতে ধর্মঘট অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সারা এই ধর্মঘটের ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়ার প্রতিবাদে গত রোববার থেকে দক্ষিণবঙ্গের ১০টি জেলায় পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়।

একইসঙ্গে করণীয় নির্ধারণের জন্য সোমবার দুপুর ৩টায় ঢাকায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যৌথসভা শুরু হয়। তিনি নিজেও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সিদ্ধান্ত ছাড়াই সোমবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মুলতবি হয়।

ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় রাত সাড়ে ৮টায় মুলতবি সভা শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সারাদেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ওই সভা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সারাদেশে একযোগে সকল ধরনের যানবাহন চলাচলে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে।

এদিকে, পরিবহন ধর্মঘট তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিকল্প যানবাহন হিসেবে ট্রেন ও বিমানে যাতায়াত করছে সাধারণ মানুষ।

তবে সেক্ষেত্রে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অপরদিকে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানি পণ্য খালাসে ধস নেমেছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পাসপোর্ট যাত্রীরাও।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর থেকে পণ্য খালাস নিয়েও গত তিনদিনে কোনো পণ্যবাহী গাড়ি ছেড়ে যায়নি। ফলে থমকে গেছে বন্দর এলাকা।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আবদুল জলিল জানান, প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে ৩০০ ট্রাক পণ্য খালাস হয়ে থাকে। এখন বন্দর এলাকা ছেড়ে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক যেতে পারছে না। এ জন্য বন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে পণ্যজটের। পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শত শত ট্রাক। এ নিয়ে সবার মাঝে চাপা ক্ষোভ কাজ করছে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী জানান, ধর্মঘটের কারণে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য খালাস হচ্ছে না। ট্রাক শ্রমিকরা ট্রাক না চালানোর এবং শ্রমিক ইউনিয়নের বাধার মুখে তারা কোনো ট্রাকে পণ্য লোড করতে পারছে না। এভাবে হলে কীভাবে চলবে। একজন মানুষের জন্য পুরো দেশ তারা জিম্মি করেছে ফেলেছে।

এদিকে ভারত থেকে ফেরত আসা পাসপোর্ট যাত্রীরা বেনাপোল বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে। শিশু ও রোগী যাত্রীদের নিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এসব যাত্রীরা। অনেকে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসা ঢাকার গাজীপুরের আসমা বেগম বলেন, আমরা পরিবারের ৪ জন সদস্য চিকিৎসা নিতে কলকাতা গিয়েছিলাম। এক সপ্তাহ পর দেশে ফিরে এসে জানতে পারলাম দেশে ধর্মঘট চলছে। সকাল থেকে বন্দরের চেকপোস্ট এলাকায় বসে আছি। কাছেও এমন কোনো বাড়তি টাকা নেই যে মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেটে ভাড়া নিয়ে বাড়ি ফিরে যাব।

আর সুযোগ বুঝে মাইক্রোবাস এবং ট্যাক্সি চালকরাও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। বেনাপোল থেকে ঢাকার মাইক্রোবাস ভাড়া যেখানে ১৩-১৪ হাজার টাকা, সেখানে তা নেয়া হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ৮ হাজার টাকার ট্যাক্সি ভাড়া হাকা হচ্ছে ১৫-১৬ হাজার  টাকা।

মিলন রহমান/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।