রংপুরে ৩০ হাজার পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগে বিলম্ব


প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৫

রংপুরের প্রায় ৩০ হাজার আবেদনকারী গ্রাহক দীর্ঘ চার বছর ধরে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছেন না। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের পরিবারের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার পর ৮/১০ হাজার টাকা খরচ করেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। ডিজিটাল যুগেও ল্যাম্পো জ্বালিয়ে সংসারের যাবতীয় কাজ সম্পাদনসহ ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করতে হচ্ছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সংযোগ পাবো তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দীর্ঘ চার বছরে কিছু আবেদনকারীর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হলেও তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, পাগলাপীর ও শঠিবাড়ি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলাসহ ১৩ উপজেলায় গ্রাহক রয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার। বিদ্যুতের চাহিদা ৬৫ থেকে ৭২ মেগাওয়াট। সেচযন্ত্র রয়েছে ২০ হাজারের ওপর। পাগলাপীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে সংযোগের জন্য নতুন আবেদন রয়েছে ২০ হাজারের ওপর। চার বছর থেকে কোনো নতুন লাইনের সংযোগ দেওয়া হয়নি। তবে কিছু নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

আবেদনকারী রফিকুল ইসলাম, রমজান আলীসহ অনেকেই জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার পর ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। এই টাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীরা গ্রহণ করেছেন। টাকা খরচ করার পরও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসহ কর্মচারীদের কাছে ধরণা দিয়েও আজ পর্যন্ত সংযোগ পাচ্ছি না।

তারা আরো জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক, চেয়ারম্যান ও এক শ্রেণির লাইনম্যানের মাধ্যমে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এদিকে শঠিবাড়ি বিদ্যুৎ সমিতিতে এখনও ১০ হাজারের ওপর নতুন আবেদন পড়ে রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, গত মাসে দুই হাজারের বেশি নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতিটি নতুন সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে উৎকোচ দিতে হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারলে বিদ্যুৎ সংযোগ মাসের পর মাস আটকে থাকছে। এছাড়া নানা অজুহাতে সংযোগ দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

কৃষক আতাউর রহমানসহ একাধিক কৃষক জানান, নতুন সংযোগ না পাওয়ার কারণে চলতি বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে পারেননি। ডিজেল চালিত যন্ত্র দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। তারা অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সংযোগ দেওয়া নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে পাগলাপীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম সোহরাব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংযোগ দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘ চার বছর এ সমিতিতে নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধ ছিল। সম্প্রতি নতুন সংযোগ দেওয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আবেদনকারীদের সংযোগ দেওয়া হবে।

শঠিবাড়ি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম দেওয়ান তোফাজ্জল হোসেনও অর্থ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, গত মাসে প্রায় ২ হাজার নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে।

এসএইচএ/এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।