দাফন প্রতিরোধ নয়, বিজয় মিছিল করবেন মুক্তিযোদ্ধারা


প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০১৫

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের লাশ শেরপুরে দাফন প্রতিহত করার ঘোষণা থেকে সরে এলেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

তবে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের পর ১২ এপ্রিল রোববার মুক্তিযোদ্ধারা শহরে বিজয় মিছিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ১১ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার মো. মেহেদুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হায়দর আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম.এম. নূরল ইসলাম হিরু, সদর উপজেলা কমান্ডার অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান আকন্দ, জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন, মানবাধিকার নেতা অ্যাডভোকেট প্রদীপ দে প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভাশেষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরল ইসলাম হিরু বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বিশেষ অনুরোধে এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা লাশ প্রতিহত করার কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে। ওই কর্মসূচির পরিবর্তে নরঘাতক কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে রোববার সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম জেলা শহরে বিজয় মিছিল ও সমাবেশ করবে।

শেরপুর কালেক্টরেটের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শামসুদ্দিন মুন্না জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দের সাথে এক জরুরী বৈঠকে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে কামারুজ্জামানের লাশ শেরপুরে দাফন প্রতিহত করার ঘোষণা থেকে সরে এসেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। এতে স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে, কামারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি বাজিতখিলা ইউনিয়নে লাশ দাফনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। কামারুজ্জামানের শেষ ইচ্ছে অনুয়ায়ী বাজিতখিলা-গাজীর খামার পাকা সড়কের পাশে তার স্থাপিত বাজিতখিলা-কুমরি এতিমখানার সন্মুখে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ভাই মো. কফিল উদ্দিন।

তিনি জানান, ইতোমধ্যেই এক শতাংশ জমি কিনে সেখানে মাটি ফেলে পারিবারিক কবরস্থান বানানো হয়েছে। তাছাড়া সেখানে ইট-বালি এনে রাখা হয়েছে।

এদিকে, জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী প্রস্তুতি হিসেবে শেরপুরে ৪ প্লাটুন বিজিবি, ৪ প্লাটুন র্যাব এবং জেলা সদরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার বিকেল থেকে যৌথবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। কামারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি বাজিতখিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সদস্যরা ইতোমধ্যেই অবস্থান নিয়েছে।

র‌্যাব ১৪ কমান্ডার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল থেকে রোববার পর্যন্ত ৪ প্লাটুন র‌্যাব বাজিতখিলা ইউনিয়নসহ জেলা সদরে টহল দেবে। যদি কেউ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার চেষ্টা করে তাহলে র্যাব কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

পুলিশ সুপার মো. মেহেদুল করিম বলেছেন, সবাই জানে কাদের মোল্লার রায় কার্যকরের পর কিভাবে জানাজা ও দাফন হয়েছে। কাজেই রায় কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে জেলার প্রতিটি উপজেলা সদরে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেবে। কামারুজ্জামানের দাফন চলাকালে সাংবাদিকসহ কাউকেই ওই এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবেনা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে অন্য কিছু করতে দেওয়া হবেনা। দাফনের পরও পুলিশ ওই স্থানে অবস্থান করবে।

এমএএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।