স্বামীর নির্যাতনের ভয়ে ভারতে চলে যেতে চায় রেজিনা
প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে ভারতীয় এক তরুণীকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিয়ে এসে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
নির্যাতনের শিকার কিশোরীর নাম রেজিনা আহাম্মেদ (১৭)। তিনি ভারতের আসাম প্রদেশের সুনিতপুর জেলার তেজপুর এলাকার মহাভৈরব থানার গুটলংবিতোসুতি গ্রামের পিকাপ ড্রাইভার আবদুর রশিদ ও মা মাজেদা বেগমের মেয়ে। সে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
রেজিনা আহাম্মেদ জানায়, দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরের রোস্তমনগর মহল্লার সুজন শেখ ও মাহামুদা খাতুনের ছেলে সাগর শেখ (২৮) প্রায় ভারতের আসাম প্রদেশের সুনিতপুর জেলার তেজপুর এলাকার মহাভৈরব থানার গুটলংবিতোসুতি গ্রামে যাতায়াত করতো। সেই সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয়।
এরপর দু`জনের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এসময় সাগর শেখ নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা বলে জানায়। পরে ৮ মাস পূর্বে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। সেখানে কয়েক মাস থাকার পর রোজিনাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে বাংলাদেশে তার নিজ বাড়ি পার্বতীপুরে নিয়ে আসে।
রেজিনা জানায়, এখানে এসে প্রথম ১ /১৫ দিন সে ভালোই ছিল। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে দু’মাস ধরে সংসার করার সময় তাকে প্রায়ই সে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো।
মঙ্গলবার বিকেলেও রেজিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করলে সে নিরুপায় হয়ে পালিয়ে গিয়ে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। সেখানেও তার উপর নির্যাতন নেমে আসে। রাতে হাসপাতাল থেকে সাগর শেখ দলবল নিয়ে গিয়ে রেজিনাকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। এসময় খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেজিনার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার গর্ভে তিন মাসের সন্তান রয়েছে। এই অবস্থাতেই সাগর শেখ তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। সে আর তার স্বামীর ঘরে আর ফিরে যেতে চায় না। ভারতে তার মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চায়।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এইচ এম বোরহান উল ইসলাম সিদ্দিকি জানান, রেজিনা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সে অন্ত:সত্ত্বা।
হাসপাতালের ওসিসি এর প্রোগ্রাম অফিসার রাবেয়া খাতুন জানান, ভারতীয় কিশোরী রেজিনাকে তাদের সংস্থার পক্ষ থেকে আইনী সহায়তাসহ সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।
পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহাম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভারতীয় এই নারীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
এমএএস/জেআইএম