পূর্ব শত্রুতার জেরেই দুই শিশুকে হত্যা


প্রকাশিত: ০৮:৪৮ এএম, ১০ মার্চ ২০১৭

নিখোঁজের একদিন পর শুক্রবার সকালে মানিকগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই ওই শিশু দুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতরা হলো, জেলার শিবালয় উপজেলার নিহালপুর গ্রামের স’মিল কর্মচারী বাসু সেখের ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন (৮) ও ঘিওর উপজেলার বৈকন্ঠপুর গ্রামের ইলেক্ট্রিশিয়ান শহিদুল ইসলামের ছেলে শিশু শ্রেণির ছাত্র দুরন্ত (৭)।

পুলিশ ও পরিবারিক সূত্র জানায়, সাব্বির বৃহস্পতিবার বিকওলে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে বের হয়েছিল। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় তার খোঁজে এলাকায় মাইকিং করা হয়। শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে যমুনা নদীর চরে বালুর গর্তে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

পরিবারের দাবি,শত্রুতাবসত তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বালুর গর্তে পুতে রাখা হয়। এ ঘটনায় সাব্বিরের দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।

অপরদিকে, ঘিওর উপজেলার বৈকন্ঠপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে দুরন্ত বৃহস্পতিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী ফুফুর বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। রাতে অনেক খোঁজাখুজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। সকালে বাড়ির অদূরে একটি বাঁশঝাড়ে হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
 
শিশুটির মামা ইউনূস আলী জানান, দুরন্তের মরদেহ সালোয়ার-কামিজের কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। তার পাশেই একটি ধারালো চাকু পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, মাত্র আড়াই শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশী আনোয়ার, ইউসূফ ও রাশুর সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, সালোয়ার কামিজের কাপড় ওই বাড়িরই কোনো নারীর হবে।

এদিকে শিশু খুনের দুটি ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেড এম জাকির হোসেন দুটি ঘটনাস্থলই পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে এলাকাবাসীরও সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

বি.এম খোরশেদ/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।