বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা যুবলীগে পদ পেয়েই সম্পদ দখল
অসাদচারণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুই বছর আগে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন রমিজ উদ্দিন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। কিন্তু ১৫ দিন না যেতেই তার বিরুদ্ধে অন্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ উঠেছে।
রাতের আধারে নিজের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সিংগাইর বাজারে এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নেন রমিজ উদ্দিন। অথচ সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে ওই জমিতে প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন দলিল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল করার পর জমিটি নিজের নামে বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন রমিজ।
দলিল উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান রাজীব জানান, সিংগাইর বাজারের হাসপাতাল রোডে ২ শতাংশ চান্দিনা ভিটি ১৯৮৭ সালে সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেন তার দাদা মৃত বাদশা ফকির। তখন থেকেই জমিতে ঘর তুলে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তার বাপ-চাচারা। সম্প্রতি রাজীবের বাবা হাজী দলিল উদ্দিনের অংশের ঘরটি সংস্কার করা হয়।
কিন্তু হঠাৎ করেই গত ১ মার্চ রাতের আধারে ওই ঘরসহ জমিটি দখলে নিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রামিজ উদ্দিন। তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে চেয়ার-টেবিল রাখেন। আগের সাইনবোর্ড খুলে ফেলে টাঙানো হয়েছে নতুন সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে `মোর্সাস সোনিয়া এন্টারপ্রাইজ, প্রো. মো. রমিজ উদ্দিন`। দখলের পর থেকেই রমিজ ঘরটিতে বসে সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন।
রাজীব আরো জানান, তাদেরকে নানা ভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। এজন্য ভয়ে দোকানের সামনে যেতে সাহস পান না। তবে প্রতিকার চেয়ে বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কাছ লিখিত অভিযোগ করেছেন। একইসঙ্গে তার বাবা দলিল উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ থাকায় কয়েক বছরের লিজ নবায়ন ফি বকেয়া পড়েছে। বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্যও তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, দলিল উদ্দিনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ নিয়ে বসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরেজমিন সিংগাইর বাজারে গিয়ে কথা হয় পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। সবাই এক বাক্যে জানান, জমিটি দলিল উদ্দিনই দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই রমিজ নিজের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখলে নিয়েছেন। জিজ্ঞাসা করলে রমিজ তাদেরকে জানিয়েছেন তিনি জমিটি বন্দোবস্ত নিয়েছেন।
সিংগাইর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিনকে পাওয়া গেল পৌর ভূমি কর্মকর্তার অফিসে। দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল। জোর করে দখল করা হয়নি। জমিটি পাওয়ার জন্য নিয়ম অনুযায়ি তিনি আবেদন করেছেন।
বন্দোবস্ত পাওয়ার আগে দখল করা যায় কিনা এমন প্র্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চান্দিনা ভিটির নিয়মই হচ্ছ বন্দোবস্ত পাওয়ার আগে দখল দেখাতে হয়। তাই সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছে।
দলিল উদ্দিনের নামে লিজ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা লিজ মানি ঠিক মতো পরিশোধ করেন না।
তবে সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এলিনা আকতার জাগো নিউজকে জানান, জমিটি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য রমিজ উদ্দিন আবেদন করেছেন। তবে বন্দোবস্ত পাওয়ার আগে সাইনবোর্ড টাঙানো বেআইনি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পদ পাওয়ার ১৫ দিন না পেরতেই যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের জমি দখলের ঘটনায় নিজ দলের অনেকেই ক্ষোভ জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ছাত্রলীগে থাকা অবস্থায়ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন রমিজ। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও একই কাজ শুরু করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, রমিজ উদ্দিন স্থানীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের ঘনিষ্ঠ। তার পছন্দেই রমিজকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এ কারনে প্রকাশ্যে রমিজের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না।
বি.এম খোরশেদ/এফএ/আরআইপি