দিনাজপুরে জোড়া খুন : ৩ দিনেও হদিস মেলেনি টিপুর


প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ১৮ মার্চ ২০১৭

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে কথিত পীরসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে ইকবাল হোসেন টিপু নামে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার তিনদিনেও হদিস পায়নি পরিবার।

নিখোঁজ ইকবাল হোসেন টিপু (৫৫) নিহত কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর ভায়েরা ভাই এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ধুলাউড়ি গ্রামের মৃত আলহাজ আজগর আলীর ছেলে।

ইকবাল হোসেনের স্ত্রী ইয়ামিন আর বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন লোক।

তিনি জানান, তার স্বামীকে কোথায় এবং কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে- জিজ্ঞাসা করা হলে ফরহাদ হোসেন হত্যার ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানায় র্যাব ও পুলিশ পরিচয়দানকারী সদস্যরা। তবে এরপর পুলিশ ও র্যাব অফিসে যোগাযোগ করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর মতো তাকেও এরকম হত্যার শিকার হতে হয় কিনা তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় পরিবার।

নিখোঁজ টিপুর ছেলে ইব্রাহিম খলিল হিমু বলেন, র্যাব ও পুলিশ পরিচয়ে বাবাকে ধরে নিয়ে গেলেও কোনো হদিস না পাওয়ায় উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার সন্ধান এবং তাকে ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে, র্যাব দিনাজপুর ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সাকিব জানান, বীরগঞ্জ থেকে তারা এই নামে কাউকে আটক করেনি। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলমও জানান একই কথা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ রাতে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা গ্রামে ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠত কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরিফে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হয় ফরহাদ হোসেন চৌধুরী এবং তার গৃহপরিচারিকা ও মুরিদ রূপালী বেগম।

এই ঘটনার দুইদিন পর ১৫ মার্চ বোচাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর মেয়ে ফাতিয়া ফারহানা।

হত্যা তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে কুড়িগ্রামের উলিপুরের কথিত পীর ইসহাক, ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর দরবার শরিফের খাদেম সায়েদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ইতোমধ্যে এই দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ এই মামলায় ৭ জন আসামিকে চিহ্নিত করলেও ইকবাল হোসেন টিপুর নাম এর মধ্যে নেই।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।