সেই উপজেলা চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে ঝালকাঠিতে প্রধান শিক্ষকের হাত-পা ভেঙে পুলিশে দেয়ার ঘটনায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
হাত-পা ভেঙে যাওয়া গোবিন্দ ধবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়া বাদী হয়ে রোববার দুপুরে চারজনকে আসামি করে ঝালকাঠি সদর থানায় এ মামলা করেন।
সদর উপজেলার রমানাথপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ২৭ মার্চ রাতে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ রাতে ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোড থেকে গোবিন্দ ধবল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়াকে তুলে নিয়ে যান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সুলতান হোসেন খান ও তার সহযোগীরা।
উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়া ইউনিয়নের রামনগর পুলিশ বক্সের পাশে একটি বালুর মাঠে। সেখানে হত্যার উদ্দেশ্যে হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের হাত ও পা ভেঙে দেয়া হয়।
এরপর রাত ৯টার দিকে কীত্তিপাশা বাজারের ব্যবসায়ী উত্তম দাসকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে হত্যার উদ্দেশ্যে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার লোকজন।
উত্তম দাসের চিৎকার শুনে বাজারের পাশেই তার বাড়ি থেকে ছুটে আসেন বোন রীনা দাস ও ভাইয়ের স্ত্রী অঞ্জনা দাস। পরে তাদের পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতদের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তার গাড়িতে করে ঝালকাঠি থানায় নিয়ে আসেন। থানা পুলিশ আহতদের অবস্থা গুরুতর দেখে তাদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠায়।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়া ও ব্যবসায়ী উত্তম দাসকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহে আলম বলেন, শনিবার রাতে শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়া থানা অভিযোগ করেন। অভিযোগটি রোববার দুপুরে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান উল্টো তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বলেন, শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়া, ব্যবসায়ী উত্তম দাস ও নব্য আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ খান আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। আমি এই ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবো।
মো. আতিকুর রহমান/এএম/জেআইএম