কালের সাক্ষী শতবর্ষী ফুলগাছটি এখন কেবল স্মৃতি!
ব্রিটিশ আমল থেকেই কক্সবাজার মহকুমার একটি স্টেশন চকরিয়া। যা পরবর্তীতে অধিক সংখ্যক ইউনিয়ন নিয়ে জেলার বড় উপজেলা হিসেবে অবস্থান করে নিয়েছে। চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে ফুলতলা নামে রয়েছে একটি গ্রাম। সে গ্রামটির নামকরণ হয়েছে ব্রিটিশ আমলে রোপন করা একটি ফুলগাছের নামে। কালের বিবর্তনে গাছটি বিশাল কায়া গড়ে শুধু সুশীতল ছায়ার আধার নয়, নিজেকে দাঁড় করায় শত বছরের পুরোনো সময়ের সাক্ষী হিসেবে।
কিন্তু এটি এখন কেবল স্মৃতি। পৌরসভার ড্রেন নির্মাণের নামে চকরিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহ পূর্বে ব্রিটিশ পিরিয়ডের সাক্ষী পুরনো ফুলগাছটি কেটে ফেলেছে। ফলে ফুলতলার স্মৃতি চিহৃ মুছে ফেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের ফুলতলা এলাকায় ব্র্রিটিশ আমলে রোপণ করা ফুলগাছটি শতবছরের কালের সাক্ষী। ধীরে ধীরে এ গাছটি বড় হলে গাছের ছায়ার নিচে গড়ে ওঠে দোকান-পাট ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। আর ফুল গাছটিকে ঘিরে এলাকার নামকরণ হয় ফুলতলী।
কিন্তু চকরিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ড্রেন নির্মাণের নামে এক সাপ্তাহ আগে বিশাল ফুল গাছটি কেটে নিয়ে যায়। বিগত সময়ে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সময় রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করলেও কালের সাক্ষী হিসেবে স্মৃতি রাখতে গাছটি কাটেনি। এবারে গাছটি কাটার সময় এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা শতবছরের স্মীৃতি বিজড়িত ফুলগাছটি না কাটতে পৌর কর্তৃপক্ষকে বেশ অনুরোধও করেন। কিন্তু পৌরসভার বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী কালের সাক্ষী সংরক্ষণের পরিবর্তে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে গাছটি কেটে ফেলেন।
পরিবেশপ্রেমীরা বলেন, বিশাল আকৃতির ফুলগাছ থাকায় ওই স্থানের নাম ফুলতলা রাখা হয়। এই নামটি বিভিন্ন স্থানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ, এই এলাকাকে ফুলতলা হিসাবে চেনে। ফুলগাছটি শতবছর ধরে তার ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। এলাকার অনেকে পৃথিবী ত্যাগ করা তাদের স্বজনদের ছোঁয়ার বিকল্প হিসেবে গাছটি এসে ধরে দেখত। বিভিন্ন প্রতিকূলতা রক্ষা ও সব সময় পথিকরা এ ফুল গাছের ছায়ায় বিশ্রাম করত।
তারা আরও বলেন, বিগত ১০বছর পূর্বে এই ফুলগাছ ছাটাই করার কারণে সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীসহ একাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ কালের সাক্ষী ফুলগাছটি কেটে স্মৃতি চিহৃ মুছে ফেলেছে। এই গাছটি কাটার কারণে ইতিহাসের সাক্ষী মুছে গেল। পরে জানা গেল এ ফুল গাছটি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে পৌরসভা।
চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, শতবর্ষী ফুলগাছটি না কাটার জন্য অনেকবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের স্বার্থে গাছটি কেটে ফেলতে হয়েছে। এটি না কাটলে দুটি দোকান ভেঙে ফেলার প্রয়োজন পড়ে। সেখানে ড্রেন করার জন্য ইতোমধ্যে পৌরসভা কাজ শুরু করেছে। গাছটি ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। ওই টাকা ফুলতলা জামে মসজিদের উন্নয়নের কাজে ব্যয়ের কথা জানান তিনি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, এলাকার উন্নয়ন জনপ্রয়োজনে। তবে কালের স্মৃতি রক্ষা করা ও পরিচর্যা উন্নয়নের একটি অংশ। এটি নিয়মিতকরণ জনপ্রতিনিধিসহ সকল বোধসম্পন্ন মানুষের দায়িত্ব। কেউ কাউকে প্রতিটি কাজ বলে বলে করাতে পারে না। কালের এ স্মৃতি কাটার আগে বিকল্প চিন্তা করলেও পারতো সংশ্লিষ্টরা।
এফএ/আরআইপি