হবিগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় তলিয়ে গেছে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল


প্রকাশিত: ০২:২৭ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৭

হবিগঞ্জের সাত উপজেলার ১০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। কুশিয়ারা, কালনী, রত্না ও খোয়াই নদীর বাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ করায় এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ই বানের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল।

বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত টানা বর্ষণের কারণে বাড়ছে খোয়াই নদীর পানিও।

বুধবার দুপুর ১টায় খোয়াই নদীতে বাংলাদেশ-ভারত সীমন্তবর্তী বাল্লা পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি আগাম বানের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক স্থানে নদীর পানি আটকাতে স্বেচ্ছায় বাঁধ মেরামতে কাজ করে যাচ্ছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বজলুর রহমান জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার ১০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল বানের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি নিমজ্জিত হয়েছে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলায়।

বানিয়াচংয়ে রত্না এবং আজমিরীগঞ্জে কালনী ও কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ও রাস্তা উপচে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। লাখাইয়ে খোয়াই নদীর পানিতে ফসল নিমজ্জিত হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোথাও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এমএল সৈকত জানান, আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে দুপুর ২টায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১৮১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খোয়াই নদীর পানি বাল্লা সীমান্তে ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পানি সন্ধ্যা নাগাদ জেলা শহর পর্যন্ত আসবে। তবে কোথাও কোনো নদীর বাঁধ ভাঙেনি। বাঁধ উপচে পানি হাওরে প্রবেশ করছে। যে স্থানগুলোতে পানি উপচে হাওরে ঢুকছে সেগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের বাইরে।

তিনি আরও বলেন, তবুও আমরা ফসল রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দিনরাত আমরা স্থানীয়দের নিয়ে কাজ করছি। আবহাওয়া যদি আর খারাপ না হয় তবে আশা করি খুব বেশি ফসল নষ্ট হবে না।

জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর জমি। কিন্তু আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আছে ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমি। আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলায় নিম্নাঞ্চলের যে জমিগুলো প্লাবিত হয়েছে সেগুলো এ প্রকল্পের বাইরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় মোট ১০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল বানের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি নিমজ্জিত হয়েছে বানিয়াচং উপজেলায়। এখানে ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির ফসল ইতিমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৭৫৫ হেক্টর, লাখাই উপজেলায় ১ হাজার ৪২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬৪০, নবীগঞ্জে ৬২০, বাহুবলে ৭৫ ও চুনারুঘাটে ৭০ হেক্টর জমির ফসল বানের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ই ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল ২ হাজার ৫২০ হেক্টর জমির ফসল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান মন্ডল জানান, চুনারুঘাট ছাড়া অন্যান্য উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করে ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। আর এ উপজেলায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।

এআরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।