হার না মানা জসিম হাওলাদার


প্রকাশিত: ০৪:১১ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৭

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের ছোট শিধলকুড়া গ্রামের জমসেদ হাওলাদারের ছেলে জসিম হাওলাদার (২৩)। প্রতিবন্ধী জসিম হাওলাদার এক পা দিয়ে রিকশার প্যাডেল ঘুরাচ্ছেন ১০ বছর যাবত।

জানা যায়, জসিম নয় বছর বয়সে মাকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা ও ভাইবোনসহ ১০ জনের সংসার টেনে চলেছেন জসিম হাওলাদার। শিশু বয়সে টাইফয়েড জ্বরে পা প্যারালাইসড হয়ে যায় জসিমের। বাবা মা অর্থের অভাবে ছেলেকে লেখাপড়া করাতে পারেননি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে রিকশার প্যাডেলে পা রাখেন জসিম।

সংসারের ঘানি টানতে ভিক্ষার ঝুলি হাতে না নিয়ে কঠিন পরিশ্রমের কাজ বেছে নেন তিনি। রিকশা চালিয়েই ৩ বোনকে বিয়ে দিয়েছেন  জসিম। নিজে সংসার পেতেছেন। ২ বোন ও এক ভাইকে পড়ালেখাও করাচ্ছেন। তবে এতকিছুর পরও কখনোই মুখের হাসি ম্লান হয়নি জসিম হাওলাদারের। তিনি পরিশ্রমের দ্বারা সংসারে সুখ কিনে নিয়েছেন।

সদা হাস্যজ্জল জসিম হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন,  মা ৯ বছর বয়সে চলে গেছেন। তখন সংসারে একমাত্র বড় ছেলে আমি। আর আমার ৬ ভাই বোন ছোট। বাবা বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। কী আর করবো চোখে মুখে অন্ধকার দেখছিলাম। তখনই রিকশা ভাড়া নিই। প্রথম প্রথম চালাতে অনেক কষ্ট হত। প্রতিদিন রিকশা জমা বাবদ ৩০ টাকা দিতে হোত। বাকি যে টাকা থাকতো তা দিয়েই সংসার চলতো।

Shariatpur

বর্তমানে ৬ মাস যাবত অটোরিকশা চালাই। প্রতিদিন রাস্তা খরচ ও মালিকের ভাড়া মিটিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচশ টাকা আয় হয়। এই আয়েই সংসার চালিয়ে ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি।

জসিমের বাবা জমসেদ হাওলাদার বলেন, চার বছর আগে বিয়ে করেছে আমার বড় ছেলে জসিম। আমার একটি নাতনিও আছে। যদি নিজে একটি রিকশা কিনতে পারতো তাহলে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসত।

শিধলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানে আলম খোকন বলেন, জসিম হাওলাদার প্রতিবন্ধী হয়েও ভিজিডি ভিজিএফ নেননি।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।