চেলসির দুঃস্বপ্নের সপ্তাহ, নিউক্যাসলের কাছে হেরে বড় ধাক্কা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইংলিশ লিগে হতাশার সপ্তাহটা আরও খারাপভাবে শেষ হলো চেলসির জন্য। শনিবারের ম্যাচে অ্যান্থোনি গর্ডনের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে হেরে গেছে লন্ডনের দলটি নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কাছে। এই পরাজয় ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় খেলার দৌড়ে চেলসির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই হারের পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পঞ্চম স্থানেই রয়ে গেলো চেলসি। ৩০ ম্যাচে চেলসির অর্জন ৪৮ পয়েন্ট। লিভারপুল পরের ম্যাচ জিতলে চেলসি চলে যাবে ৬ষ্ঠ স্থানে। ৩০ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ১০ম স্থানে রয়েছে নিউক্যাসল।

এই ম্যাচে জিতলে তৃতীয় স্থানে ওঠার সুযোগ ছিল কোচ লিয়াম রোজেনিয়র দলের সামনে। কিন্তু বল দখলে আধিপত্য দেখিয়েও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি তারা। একের পর এক অর্ধেক সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে চেলসি।

মাঝ সপ্তাহে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে পাঁচ গোল হজম করার হতাশা যেন এখানেও তাদের তাড়া করে বেড়ায়। রক্ষণভাগের সেই ঢিলেঢালা পারফরম্যান্সই নিউক্যাসলের একমাত্র সুযোগ তৈরি করে দেয়।

এখন চেলসি শীর্ষ চারের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে। তারা অ্যাস্টন ভিলা এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে, তাও আবার একটি ম্যাচ বেশি খেলে। ফলে এই সপ্তাহান্তের ফলাফল ইউরোপের প্রতিযোগিতায় খেলার আশা অনেকটাই কঠিন করে তুলতে পারে।

ম্যাচের ১৮তম মিনিটেই আসে নির্ণায়ক গোল। নিউক্যাসলের তরুণ ডিফেন্ডার টিনো লিভরামেন্তো দারুণ একটি পাস দেন। সেই পাস চেলসির রক্ষণভাগ ভেঙে মাঝমাঠ দিয়ে এগিয়ে যান জো উইলোক। পরে তিনি বল বাড়িয়ে দেন গর্ডনের দিকে। সহজ সুযোগ পেয়ে গর্ডন বল জালে পাঠিয়ে দেন।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য চেলসিই আক্রমণে বেশি সক্রিয় ছিল। একটি কর্নার থেকে ওয়েসলি ফোফানার হেড জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরে নতুন ছয় বছরের চুক্তি পাওয়া রিসি জেমস দূর থেকে একটি শট নিলেও সেটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

এরপর কোল পালমার মালো গুস্তোর পাস থেকে একটি সুযোগ পেলেও বল বাইরে চলে যায়। আবার একটি শক্ত শট নেন এনজো ফার্নান্দেজ, কিন্তু সেটিও গোল হয়নি।

অন্যদিকে নিউক্যাসল প্রথম সুযোগেই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। গোল হজম করার পর চেলসি সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। প্রতিটি ব্যর্থ আক্রমণ বা ব্লক হওয়া শটে স্টেডিয়ামে হতাশার প্রতিক্রিয়া শোনা যায়।

প্রথমার্ধে চেলসি বল দখলে এগিয়ে থাকলেও কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি। বরং পাল্টা আক্রমণে নিউক্যাসল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। উইলকের একটি শট ঠেকাতে দারুণ সেভ করতে হয় গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে।

অন্য প্রান্তে নিউক্যাসলের গোলরক্ষক অ্যারোন রামসডেল সহজেই ঠেকিয়ে দেন পালমারের একটি শট। দ্বিতীয়ার্ধেও চেলসির আক্রমণ ধারালো হয়নি। মাঝমাঠের খেলোয়াড় জ্যাকব রামসের শট ডিফ্লেকশন হয়ে গোলের দিকে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেভ করেন সানচেজ।

এরপর গোলরক্ষক সানচেজ একটি ভুল পাস দিয়ে প্রায় বিপদ ডেকে আনেন। তবে শেষ মুহূর্তে দারুণ ট্যাকল করে পরিস্থিতি সামাল দেন ফোফানা।

শেষ দিকে চেলসি কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পায়নি। লিয়াম ডেলাপ ছয় গজ দূর থেকে বল বার-এর ওপর দিয়ে মারেন। ট্রেবহ চালোবাহর হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

ম্যাচের শেষদিকে জেমসের একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। আবার হোয়াও পেদ্রোর হেড জালের ওপর পড়ে। সব মিলিয়ে দিনটি একেবারেই ভালো কাটেনি চেলসির। গুরুত্বপূর্ণ এই হারে শীর্ষ চারে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে তাদের অবস্থান আরও কঠিন হয়ে গেল।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।