জেলায় জেলায় ভূমিকম্প
শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পে বিভিন্ন জেলায় স্কুলছাত্রী আহতসহ বেশ কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
বিস্তারিত পড়ুন আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো নিউজে :
যশোর : শনিবার দুপুরে সারাদেশের মতো যশোরেও ভূমিকম্পে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে এ ভূকম্পনের সষ্টি হয়। এসময় মানুষ আতঙ্কে ভবন থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেকে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত হতে স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোন করেন।
এদিকে, শহরের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম একাডেমি স্কুলের মূলভবনের দেওয়ালে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জোহর আলী। এছাড়া প্রাথমিকভাবে এ জেলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মুসলিম একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জোহর আলী জানান, ৭০ বছর বয়সী মূল ভবনের অন্তত তিনটি স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তারা আতঙ্কে স্কুল ছুটি দেন।
ময়মনসিংহ : শনিবার বেলা ১২টা ১৫মিনিটে ময়মনসিংহ শহরসহ জেলার সর্বত্র ভূকম্পন অনুভূত হয়। প্রায় ২মিনিট স্থায়ী ভূকম্পনের সময় হাজার হাজার মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। রাস্তাও মানুষ দুলতে থাকে। একই সাথে ভূকম্পন ও জলকম্পন ছিল।
ভূকম্পনের সময় জেলার ধোবাউড়া উপজেলার কালিকাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলের দোতলা ভবনটি যখন বার বার দোলে উঠে তখন আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা এক সাথে দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। এদের মদ্যে গুরুতর আহত ৭ জন শিক্ষার্থীকে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভর্তিকৃতরা হলো, মার্জিয়া আক্তার (৪র্থ শ্রেণি), সাকিব (৩য় শ্রেণি), আকাশ (২য় শ্রেণি), হাদিসা (৪র্থ শ্রেণি), সালিমা আক্তার টুম্পা (৪র্থ শ্রেণি), রায়হান (৪র্থ শ্রেণি) ও রুমা। আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ভূকম্পনের সময় মানুষ বসত ঘর অফিস আদালত, দোকানঘর থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। রাস্তায় অবস্থানরত আতঙ্কিত মানুষের দৃষ্টি ছিল বহুতলা ভবনগুলোর দিকে। এত দীর্ঘ সময়ব্যাপী কম্পন ইতোপূর্বে কখনো হয়নি। তবে এ দীর্ঘ সময় কম্পনের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবঞ্জে দু’দফায় ভূমিকম্প হয়েছে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শুরু হওয়া ভূমিকম্প ৭-৮ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। ভূমিকম্পে বিভিন্ন দালানকোঠা জোড়ে ঝাঁকুনি দিলে আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে বাসাবাড়িসহ ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত মানুষজন। এসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বাইরে খোলামাঠে নেমে আসে।
ভূমিকম্পের ফলে অনেকের জানালার কাঁচসহ এ্যাকুরিয়াম ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়লেও প্রায় ১৫মিনিট পর তা স্বাভাবিক হয়। এদিকে একই সময় জেলার ৫ উপজেলায়ও ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে বেলা পৌনে একটার আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে এটির স্থায়ীত্ব ছিল ৪ সেকেন্ড।
সিরাজগঞ্জ : দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এসময় অফিস, বাড়ি-ঘরসহ যে যেখানে ছিল তারা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। প্রায় দেড় মিনিট স্থায়ী এই ভূমিকম্পের সময় মুসলমানেরা উচ্চ স্বরে দোয়া ও হিন্দুদের উলুধ্বনি দিতে শোনা যায়। এসময় বাড়ি-ঘর দুলতে শুরু করলে তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
সিরাজগঞ্জ শহরের এস এস রোডের বৃদ্ধ আব্দুলাহ জানান, এমন দীর্ঘ ভূমিকম্প তিনি আগে দেখেননি।
রাজশাহী : রাজশাহী অঞ্চলেও পরপর দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার দুপুর সোয়া ১২টা ১৩ মিনিটে প্রথম দফা ও ১২ টা ৪৯ মিনিটে দ্বিতীয় দফা ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। দুই দফায় শক্তিশালী ভূকম্পনে রাজশাহীতে কয়েকটি বহুতল ভবন হেলে পড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, তাদের ভূকম্পন মাপার যন্ত্র নেই। তবে ঢাকা কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, রিখটার স্কেলে ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪।
শনিবার দুপুর সোয়া বারোটা থেকে কিছুক্ষণ পর পর মৃদু থেকে মাঝারি ভূকম্পন অনুভূত হয়।
এদিকে, রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের দেয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় ডা. সুজিত ভদ্রের তিনতলা বাসায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও নগরীর মালোপাড়া এলাকায় একটি তিনতলা বাড়ি, কাদিরগঞ্জ এলাকায় ৫ তলা ভবন ও ভেড়ি পাড়া এলাকায় কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ শক্তিশালী ভূমিকম্পে মানুষজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ি-ঘর ছেড়ে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আতঙ্কে দৌঁড়াদৌঁড়ি করে নিরাপদ আশ্রয়ের যাওয়ার সময় নগরীর বিভিন্নস্থানে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদের মধ্যে মহিলা সরকারি কলেজে পরীক্ষা চলাকালিন সময় আতিকুর রহমান লিটন ৩ তলা ছাদ থেকে লাফিয়ে ডান পা ভেঙে গেছে। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটের মানুষ মুহুর্তে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তাৎক্ষণিক বাইরে বেরিয়ে আসে। রাজশাহী নগর ছাড়াও জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পবা ও বাগমারা অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
গাইবান্ধা : শনিবার দুপুরে দু’দফা প্রবল ভূমিকম্পে গোটা জেলা কেঁপে ওঠে। প্রথম বার বেশ কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ভূমিকম্পে শহরের লোকজন চারিদিকে ছুটতে থাকে। বহুতল ভবন থেকে পরিবারগুলো বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এতে সবার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায় নি।
দুপুর বারোটা পনেরো মিনিটে ভূমিকম্প প্রায় ১০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে শহরের লোকজন জানিয়েছে। এরপর ১২ টা ৪৮ মিনিটে আবারো মৃদু ভূমিকম্প হয়। গাইবান্ধা পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিএম চৌধুরী মিঠু বলেন, ভূমিকম্পের সময় পুকুরের পানিতে তীব্র কম্পন লক্ষ্য করা যায়। পাখিরা সমস্বরে ডেকে ওঠে। মানুষ জন আতঙ্কত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে।
জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহী বলেন, ভূমিকম্প হলেও এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে।
লালমনিরহাট : শনিবার দুপুরে মাঝাড়ি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়ে ১ মিনিট স্থায়ী হয়। এসময় প্রাণভয়ে মানুষ বিভিন্ন ভবন থেকে বের হয়ে রাস্তা, সড়ক ও পার্শ্ববর্তী খোলা জায়গায় অবস্থান নেয়। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা পাবলিগ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এদিকে তিনবিঘা করিডোর এলাকার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি দ্বিতল ভবনের দেওয়াল ২ ফিট দেবে যায় বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মির জুমলা জানান।
এসময় ছাত্র-ছাত্রীরা আতঙ্কে ভবন থেকে বেড়িয়ে আসে। তবে জেলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জেলার ৫টি উপজেলায় মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরগঞ্জ : দুপুরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এসময় ঘরের আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক তারও অন্যান্য জিনিসপত্র দুলতে থাকে। জেলার ১৩টি উপজেলায় এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ সেকেন্ড স্থায়ী আকষ্মিক ভূমিকম্পে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে ছুটে আসে। অনেক এলাকায় নদ-নদী ও পুকুরের পানি ফুঁসে উঠে। তবে কোথায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
জয়পুরহাট : জেলায় দুপুর ১২টা ১১মিনিট ১৬ সেকেন্ড থেকে ১২টা ১১মিনিট ৫৬ সেকেন্ড পর্যন্ত অনুভূত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালীন সময়ে ক্লাসরুম থেকে আতঙ্কে ছেলে-মেয়েরা মাঠে বেড়িয়ে আসে। দোকান-পাঠ থেকে দোকানদাররা,ঘর-বাড়ি থেকে সবাই বেড়িয়ে আসে, তবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। জয়পুরহাট ফায়ার-সার্ভিস ইন্সপেক্টর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঝিনাইদহ : শনিবার দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে শুরু হওয়া ভূমিকম্পন ২ মিনিট স্থায়ী হয়। তবে এতে জেলার কোথাও তেমন কোন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্প চলাকালীন মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করে। বাড়ি ছেড়ে সবাই রাস্তায় নেমে আসে। শহরের অনেক টিউবওয়েল থেকে পানি উঠতে দেখা গেছে।
এদিকে ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ে কালীগঞ্জ উপজেলার মোস্তবাপুর হাইস্কুলের অস্টম শ্রেণির ছাত্রী ও মহেশচান্দা গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে শান্তা (১৪) এবং একই শ্রেণির অপর ছাত্রী ও হরিগোবিন্দপুর গ্রামের আয়ুব হোসেনের মেয়ে শান্তাসহ (১৪) মোট ৪ ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুই শান্তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া শহরের আড়াপাড়ার ব্যাংকার আলতাফ হোসেনের নতুন বিল্ডিংয়ের ইট ধসে এবং বারবাজার বেলাট দৌলতপুর আলীম মাদ্রাসার নতুন বিল্ডিংয়ের ৩টি ক্লাসরুমের পৃথক তিনস্থানে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত পরিমাণ জানা যায়নি। ভূমিকম্পের সময় জেলার বিভিন্ন নদী ও পুকুরের পানির ঘুরপাক খায়। অধিকাংশ বিল্ডিংয়ে কম্পনের অনুভূতিসহ ঘরের সিলিং ফ্যান কাঁপতে থাকে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা তার খবর এখনো আসেনি। তবে কম্পনের সময় অধিকাংশ মানুষের মাথা ঘুরেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন জানান, পৃথিবী যখন কাঁপতে থাকে তখন আমরাও কাঁপতে থাকি। পরিবেশগত কারণে এটা হয়ে থাকে। এতে কোনো ক্ষতি হয় না। অনেকে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানান, পৃথিবী যখন কাঁপতে থাকে তখন মানুষের মাথা ঘুরতে পারে তাতে মানব দেহের কোনো ক্ষতি হয়না বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্প হয়েছে তবে কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এবং ঝিনাইদহ জেলায় রিকটালস্কেল না থাকায় কত মাত্রায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।
গাজীপুর : শনিবার দুপুর সোয়া বারটার দিকে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পনের কারণে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন উচুঁ ভবনগুলো কেঁপে উঠে। বিশেষ করে বহুতল বিশিষ্ট বিভিন্ন কলকারখানাগুলোর শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভূমিকম্পনের সময় বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানা ও অফিস ও বাসা-বাড়ি থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে অনেক লোকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গাজীপুর বাঘের বাজার এলাকায় এসএম গ্রুপের একটি বহুতল গার্মেন্ট ভবন এক দিকে হেলে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পে পুকুরের পানিতে ঢেউ খেলে যায়। বাড়িঘর কেঁপে উঠে। ভমিকম্পে গাজীপুর শহরের উঁচু দালানগুলো কাঁপতে থাকে। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীরা ভয়ে এদকি-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে। এসময় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে একটি সেমিনার চলছিল। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ভবনের নীচে নেমে আসেন। তবে এখনও ক্ষয়ক্ষতির কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
রংপুর : শনিবার দুপুরে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রংপুরেও পরপর দু’দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বেলা সোয়া ১২টায় প্রথমবার ভূমিকম্পে মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে, বহুতল ভবন, শপিংমল, বাসা-বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা ভয়ে খোলা মাঠে অবস্থান নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষিকা তনুজা ইয়াসমীন।
এসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের উচ্চস্বরে উলুধ্বনি দিতে দেখা গেছে। রংপুরে প্রথমবার ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৫০ সেকেন্ড। দ্বিতীয়বার ১২ টা ৫০ মিনিটে মৃদ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এসময় এর স্থায়িত্ব ছিল ৪ থেকে ৫ সেকেন্ড।
জামালপুর : প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ভূমিকম্প অনুভুত হয়েছে। এসময় আতঙ্কে বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই অফিস-আদালত, বাসা-বাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা কাঁপতে থাকে। এছাড়াও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহন, বিদ্যুতের খুঁটিসহ তার, গাছপালা, বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্রসহ সবকিছু নাড়াচাড়া করতে থাকে। এসময় ভূমিকম্প হচ্ছে টের পেয়ে অফিস, বাসা, হোটেল-রেস্তোরা, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবস্থানরত মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।
সারা জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হলেও কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিলো। ইতোপূবেও জামালপুরে ভূমিকম্প হয়েছে তবে সেসব ভূমিকম্প এতোটা সময় স্থায়ী হয়নি, যে কারণে মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে জেলার কেথাও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ভূমিকম্পের সময় এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপশদি বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার, আরাফাতী আক্তার এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবি আক্তার, ফারজানা আক্তার, মরিয়ম আক্তার, শ্রাবন্তী আক্তার ও তৃষা আক্তার। আহতদের সকলকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রূপশদি বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ জমাদ্দার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পের সময় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের কারণে জেলার সদরের আমিন কমপ্লেক্স, মিজান টাওয়ার, বি.বাড়িয়া টাওয়ারসহ সবকটি বহুতল ভবন কেঁপে ওঠে। এসময় আতঙ্কে অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন।
ভোলা : ভোলায় দুপুর ১২টা ২০মিনিটে ভূমিকম্প হয়। এসময় আতঙ্কিত মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাইরে এসে দাঁড়ায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান প্রাইমারি স্কুল প্রধান শিক্ষক মনির সাজওয়াল।
দিনাজপুর : সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরেও দু`বার ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে দিনাজপুরের দু‘টি খনিতে কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। ভূমিকম্পের ফলে দিনাজপুরে অনেক পুরাতন ভবন ও স্কুল কলেজে ফাটল ধরেছে। এসময় আতঙ্কে ঘর বাড়ি,অফিস আদালত থেকে রাস্তায় ও ফাকা জায়গায় বেরিয়ে আসে মানুষ।
কোথাও হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শিবরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন এবং ডাকেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দৌঁড়ে বাইরে বেড়িরে আসে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে শিবরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেহেদি হাসান সজল জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুর ১২টায় ১১মিনিট প্রথম এবং সাড়ে ১২টায় দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্পের পর দুর্ঘটনা এড়াতে বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ শামীম আল-রাজী জানান, দিনাজপুরে কোথাও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল ধরেছে।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির এমডি আমিনুজ্জামান জানান, ভূমিকম্পে খনি এলাকায় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সবাইকে সর্তক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এখনো খনি এলাকায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে দু’দফায় মাঝারি ও হালকা ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টা ১২মিনিট থেকে ৪৫ সেকেন্ড ও দ্বিতীয় দফায় ১২টা ৪৭ মিনিটে ৫ সেকেন্ডের ভূকম্পন অনুভূত হয়।
এ সময় বাড়ি ঘর, দোকানপাট, অফিস আদালত থেকে লোকজন আতঙ্কে দৌঁড়ে বাইরে বেরিয়ে রাস্তায় আসে। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরাও শ্রেণি কক্ষ থেকে বের হয়। তবে জেলার কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া পাওয়া যায়নি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস মাঝারি ভূকম্পনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ক্ষতির খবর আসেনি।
শেরপুর : শেরপুর জেলা সদরসহ পাঁচ উপজেলায় শনিবার দুপুরে দু’দফা ভূমিকম্প হয়েছে। পর পর দু’দফায় ভূমিকম্পের আতঙ্কে শহরের স্কুলগুলো ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রায় ৪৭ সেকেন্ড স্থায়ী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এসময় বড় আকারের দুটি কম্পন অনুভূত হয়।
এসময় ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি, গাছপাল, পুকুরের পানি হেলতে-দুলতে থাকায় মানুষজন প্রাণভয়ে ঘর থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসে। সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, দুপুর ১ টা ৪৮ মিনিটের দিকে আরেকদফা ভূমিকম্প অনভূত হয়। এসময় ভুমিকম্প প্রায় ৬ সেকেন্ড স্থায়ী হলেও মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। প্রায় আধাঘণ্টার ব্যবধানে পর পর দু’দফা ভূমিকম্প হওয়ায় শহরের শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক দেখা দেওয়ায় সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলো ছুটি দেওয়া হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বেলা আড়াইটা) কোনো ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।
বগুড়া : শনিবার বগুড়ায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বেলা সোয়া বারোটার দিকে ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি কেঁপে ওঠে। এক মিনিটেরও বেশি সময় স্থায়ী হয় ভূমিকম্প। এ সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে।
এদিকে প্রথমবার ভূমিকম্পের মাত্র আধা ঘণ্টার পর পৌনে একটার দিকে আবারো ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে এর তীব্রতা ছিল অপেক্ষাকৃত কম।
আকষ্মিক এই ভূমিকম্পে জেলার বিভিন্নস্থানে ঘর-বাড়ির সীমানা প্রাচীর ধ্বসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া তাড়াহুড়া করে ভবন থেকে বের হতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। বগুড়া আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শাহ-আলম জানান, দুইদফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।
জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার ইমাম জানান, প্রথম দফা ভূমিকম্পে উপজেলার বীজরুলে অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বীজরুল দ্বিমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। কিছুক্ষণ পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফেটে যাওয়া দেয়াল ধ্বসে পড়ে। তবে
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকজন ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা আগেই মাঠে অবস্থান নেয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বীজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ মনে হবার কারণে তারা ভূমিকম্পের পর থেকেই ক্লাস রুমে পাঠদান বন্ধ রেখেছেন।
পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড থেকে পঞ্চগড় জেলা শহর এবং এর আশপাশ এলাকায় প্রায় ১৫/২০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল ভূকম্পন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভূকম্পন বুঝতে পেরে মানুষজন বাড়ি-ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। অনেকে ছুটাছুটি করতে থাকে। মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুত সংযোগ। জেলায় কোনো আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম না থাকায় ভূকম্পনের মাত্রা জানা যায়নি। তাৎক্ষণিকভাবে জেলার কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি। তবে অনেকেই মনে করছেন এটা স্বরণকালের মধ্যে তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী।
জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ বলেন, ভূকম্পন বুঝতে পেরে চারতলা থেকে মেয়ে এবং তার মাকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসি। ভূকম্পন ১৫/২০ সেকেন্ড স্থায়ী হলেও এর রেশ ছিল দীর্ঘক্ষণ।
রাবি : শনিবার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে রাবি ক্যাম্পাসের চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়ে বিল্ডিয়ের বাইরে বেরিয়ে আসে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা চলছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভূমিকম্প টের পেয়ে ক্লাস-পরীক্ষা ছেড়ে সবাই বিল্ডিয়ের বাইরে বেরিয়ে আসে।
এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তালহা তারেক জাগোনিউজকে বলেন, আমি রবীন্দ্র কলাভবনে তখন ক্লাসরুমে ছিলাম। হঠাৎ আমার মাথা ঘুরে গিয়েছিলো। পরে ভূমিকম্প টের পেয়ে আমি দৌঁড় দিয়ে কক্ষের বাইরে চলে যায়।
চুয়াডাঙ্গা : মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দীর্ঘ সময় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বেলা ১২টা ১৮ মিনিটের দিকে প্রথম ভূমিকম্পন অনুভূত হয়। প্রায় ২ মিনিট এ ভূকম্পন স্থায়ী ছিল। এর ১০ মিনিট পর ১২ টা ৩৮ মিনিটে দ্বিতীয় দফায় স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূতি হয়। ৎ
প্রথম দফার ভূমিকম্পের সময় ঘরে থাকা মানুষজন দ্রুত ঘরের বাইরে বের হয়ে আসেন। ইতোপূর্বেও চুয়াডাঙ্গায় ভূমিকম্পন অনুভূত হলেও এতো দীর্ঘ সময় ধরে কখনও ভূমিকম্প স্থায়ী হয়নি। চুয়াডাঙ্গার ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ ও দীর্ঘ সময় ভূমিকম্পন হলো বলে মন্তব্য করেন মুরুব্বিরা (বৃদ্ধরা)।
ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে ৩৫ সেকেন্ড ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার দুপুর সোয়া ১২ টায় এ ভূমিকম্পন শুরু হয়। তবে জেলার কোথাও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী উপকূলীয় এ উপজেলায় নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। নলছিটি উপজেলায় ভূমিকম্পনের স্থায়ীত্ব ছিল প্রায় ৪০ মিনিট। এসময় ট্রলারে পারাপার নৌ-যাত্রীরা ভীত-সন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। জেলা জুড়ে অনেকের ঘেরের মাছ বেরিয়ে যায় এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে জেলার কোথাও কোনো মারাত্মক ক্ষতি এবং হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ : কয়েক দফা ভূমিকম্পে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় শনিবার দুপুরে বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানায় আতঙ্কে হুড়োগুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ২০/২৫ জন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে শহরের একটি ৬ তলা ভবনের কিছুটা অংশ হেলে পড়ার কারণে সেটা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। ওই ভবনে থাকা লোকজনদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ফতুল্লার বাড়ৈইভোগের ফারিহা গার্মেন্টে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে হুড়োগুড়ি করে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক মমতাজ উদ্দিন জানান, ভূমিকম্পে নারায়ণগঞ্জের বেশীরভাগ স্থানে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকটি গার্মেন্টে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। শহরের নয়ামাটি এলাকাতে ৬ তলার একটি ভবন এক থেকে দেড় ইঞ্চি হেলে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন সেটা সিলাগালা করে লোকজনদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ভূমিকম্পের পর বেশীরভাগ গার্মেন্ট ও ভবনের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এছাড়া ভবন হেলে পড়েছে, কাত হয়ে গেছে, দেবে গেছে এমন গুজবেই এ আতঙ্কের সৃষ্টি। বড় ধরনের ঘটনা সৃষ্টি হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের ভূমিকম্পের পর ফতুল্লার কায়েমপুরে ফকির নিটওয়্যার এর ১২ জন শ্রমিক ও ফারিহা গার্মেন্টের শ্রমিকদের আনা হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানারও আরো ১০/১২ জনের মতো শ্রমিক আহত হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির কোনো শ্রমিক আসেনি।
মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের অদূরে সাটুরিয়া এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন নয়াডিঙ্গি এলাকার তারাসিমা এ্যাপোরেলস লিমিটেড (পোষাক কারখানা) ভূমিকম্পের আঘাতে বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ওই কারখানাটি কিছুটা হেলে পড়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে তাড়াহুড়া করে নামার সময় কর্মরত ৩০ জন নারী কর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১ জনকে মানিকগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
৫ম তলায় থাকা কর্মী হেনা আক্তার জানান, পাঁচতলা ভবন বিশিষ্ট গার্মেন্টস ভবনটি ভূমিকম্পের সময় কেঁপে উঠে। এসময় কর্মরত শত শত মহিলা কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, যে ভবনটিতে তারা কাজ করছিল সেটির দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। তারা ভূমিকম্পের আতঙ্কে ভবন থেকে নামার সময় অন্তত পক্ষে ৩০ কর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১জনকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে। এঘটনায় তারাসিমা এ্যাপোরেলস লিমিটেড (গার্মেন্টেসটি) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কারখানার এক সিকিউরিটি জানান, দুপুরে ভূমিকম্পের সময় কারখানার সকল শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটলের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জে প্রায় ২ মিনিট ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টা ১৩ মিনিটে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। এ সময় আতঙ্কিত মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নামে আসে। ভূকম্পনের সময় বিভিন্ন পুকুরে পানি ফুঁসে উঠে। গাছপালা ও দালান কোঠা কাঁপতে থাকে। বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়। ভূকম্পনে সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
কুমিল্লা : ভূমিকম্পের সময় কুমিল্লা ইপিজেডে আতঙ্কে ভবন থেকে নীচে নামতে গিয়ে ৩টি কারখানার অন্তত অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে চায়না ও ইংল্যান্ডের যৌথ মালিকানাধীন কাদেনা স্পোটর্স ওয়্যার লিমিটেড, বিএমটি ইন্টারন্যাশাল এবং জি চাং সুজ (বিডি) লি: নামের কারখানা গুলিতে এ ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লা ইপিজেডের জিএম আবদুস সোবহান শ্রমিকদের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে দ্রুত নামতে গিয়ে এসব ফ্যাক্টরির কিছু শ্রমিক আহত হয়েছেন,তাদের কুমেক হাসপাতাল এবং ইপিজেড মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে পাশের তুং হিং ম্যানুফ্যাকচারিং লিঃ এর মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা কাউসার আলম মিয়াজী জানান, কাদেনা স্পোটর্স ওয়্যার লিমিটেডের ৪ তলা ভবনটিতে ২ সহস্রাধিক শ্রমিক এবং অপর ২টি কারানায় আরো অন্তত দেড় সহস্রাধিক শ্রমিক এ সময় কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ ভূমিকম্পের সময় তারা আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে হুড়াহুড়ি করে নামার সময় অনেকেই আহত হয়েছেন। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা.হাবিব আবদুল্লাহ সোহেল জানান, ইপিজেড থেকে এ পর্যন্ত ৫০ জন শ্রমিক ভর্তি হয়েছেন, তাদের অধিকাংশ ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছেন।
এ খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান আহতদের স্বজন, ইপিজেড ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তারা। এদিকে ভূমিকম্পের সময় নগরীর বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেলার অন্যান্য উপজেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে মৃদু ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। শনিবার সোয়া ১২ টার দিকে এ ভূ-কম্পন ৩ থেকে-৪ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এসময় পুকুর ও খালের পানিতে তরঙ্গের সৃষ্টি হলে মানুষ আতঙ্কে ঘর-বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। এছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে আসে। কোন মাত্রায় ভূ-কম্পন হয়েছে তা কেউ বলতে পারেননি। ভূমিকম্পে জেলায় কোনো ক্ষয় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর : পিরোজপুরেও দেশের অন্যান্য স্থানের মতো শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। ভূ-কম্পনের সঙ্গে সঙ্গে জেলা পিরোজপুর সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়। বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির কারণে অনেকেই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
এসময় উভয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয় তাৎক্ষণিক ছুটি দিয়ে দেন। তবে, চলতি এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলাকালীন তেমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন হচ্ছে ভান্ডারিয়া উপজেলা জেলার আলগায্যালী ইসলামীয়া কমিল মাদরাসার দুটি একাডেমিক ভবন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি ভবনে বিশাল পলেস্তারা ভেঙে পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন সদর উপজেলার পাঁচপাড়া বাজারে পুলিশ ফাঁড়ির দেয়ালে ফাটল ধরেছে।
কাউখালী উপজেলার ২৫ নং কাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটির চারদিকে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ভবনের এক কর্নার ভেঙে গেছে। এছাড়া জোলাগাতী মোলারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিয়ালকাঠীর হাজীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে ছাত্র-ছাত্রীরা হুরোহুরি করে বের হতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় সন্ধ্যা ও কচা নদীর পানি ৫-৭ ফুট উঁচুতে উঠে আচরে পড়ে। ভূমিকম্পের প্রভাব প্রায় ২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল বলে জানান, কাউখালীর বিশিষ্ট সমাজ সেবক আ. লতিফ খসরু।
ভূমিকম্পে জেলার কঁচানদীর ফেরির যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। নদীতে এসময় প্রচণ্ড ঢেউ শুরু হলে নৌযানের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে কোথাও কোনো নৌযানডুবির ঘটনা ঘটেনি বলে বিভিন্ন উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নওগাঁ : আকস্মিক দু’দফার ভূমিকম্পনে নওগাঁ শহরের গোস্তহাটির মোড় এলাকার দুটি তিনতলা ভবন হেলে পড়েছে। শনিবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১২টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত জেলার সর্বত্রই ভূমিকম্পনের ঘটনা ঘটে।
এদিকে জেলার সাপাহার উপজেলার আল হেলাল ইসলামী একাডেমী স্কুলের চারতালা হতে তড়িঘড়ি করে নামতে গিয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্র ফয়সাল মাহমুদ হুমড়ি খেয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনি জানান, মাত্র আধাঘণ্টার ব্যবধানে দু’দফার ভূমিকম্পনের সময় শহরের গোস্তহাটির মোড়ে এলাকায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সামসুল আলমের এবং একই এলাকায় আকতার হোসেন নামে অপর এক ব্যক্তির দুটি তিনতলা ভবন হেলে পড়েছে।
তিনি আরো জানান, এ সময় সর্বস্তরের নারী-পুরুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট থেকে লোকজন আতঙ্কে রাস্তায় বেড়িয়ে আসে। এক মিনিট স্থায়ী এ ভূমিকম্পনের ফলে বেশির ভাগ বাসা বাড়ির শিশু, বয়স্ক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, পুরুষ ও নারীর চোখে মুখে ভর্য়াত রূপ ফুটে ওঠে।
এ বিষয়ে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পনে জেলার কোথাও ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের সময় পুকুরের পানি ঢেউ খেলতে দেখা গেছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এমএএস