পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব শুরু বুধবার


প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০১৭

উৎসবের জোয়ার এখন পাহাড়ে। পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব তিনদিনের বৈসাবি ঘরে ঘরে শুরু হচ্ছে বুধবার। ত্রিপুরায় ‘বৈসুক’ মারমায় ‘সাংগ্রাইং’ এবং চাকমায় ‘বিজু’ এই তিন ভাষার আদ্যাক্ষর দিয়ে বৈসাবি উৎসব শুরু হচ্ছে।

ভাষা চাকমা হলেও বিজু শব্দটিও প্রচলিত সার্বজনিন অর্থে। এছাড়া রাখাইনরা চাংক্রান, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়ারা বিহু নামে পালন করে উৎসবটি।

একই সঙ্গে পালন করে পাহাড়িদের অন্য জাতিগোষ্ঠীরাও। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বাংলাবর্ষ বিদায় ও বরণ উপলক্ষে প্রধান এই সামাজিক উৎসবটির আয়োজন করে তারা।

এদিকে, বৈসাবির সঙ্গে একাট্টা আবহমান বাংলার বৈশাখী উৎসব। এ উপলক্ষে রাঙামাটিতে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। সব মিলিয়ে উৎসবে এখন রঙিন পাহাড়। মাতোয়ারা পাহাড়ের মানুষ।

বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় রাজবন বিহারের পূর্বঘাটে আনুষ্ঠানিক ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়িদের ঘরে ঘরে শুরু হবে তিন দিনের মূল উৎসব।

উৎসবের প্রথমদিন চাকমারা ফুলবিজু, মারমারা পাইংছোয়াই, ত্রিপুরারা হারিবৈসুক পালন করবে। কাল দ্বিতীয় দিন চাকমারা মুলবিজু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা, ত্রিপুরারা বৈসুকমা এবং তৃতীয় দিন চাকমারা গোজ্যেপোজ্যেদিন, মারমারা সাংগ্রাইং আপ্যাইং ও ত্রিপুরারা বিসিকাতাল পালন করবে।

এদিকে, উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটিতে আয়োজিত চারদিনের অনুষ্ঠানসূচি শেষ হচ্ছে আজ। আগামী ১৫-১৬ এপ্রিল রাঙামাটিসহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং জলোৎসব।

উল্লেখ্য, যুগযুগ ধরে প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত চৌদ্দটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লোকজন তিন দিনব্যাপী উৎসবটিকে পালন করে মহাসমারোহে।

মূলত ফেলে আসা বছরের কর্মময় জীবনকে উৎসব, বিনোদন ও পূণ্যকর্ম দ্বারা স্বাচ্ছন্দ্যে পরিশোধিত করে ভবিষ্যতকে উজ্জীবিত করতে এটির আয়োজন।

উৎসবে সম্মিলন ঘটে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের লোকজনের। এবারও বৈসাবি উৎসব ঘিরে পাহাড়জুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। উৎসবে মুখর গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।