চিরকুট লিখে তরুণীর আত্মহত্যা, গ্রেফতার হয়নি ধর্ষকরা
কুমিল্লায় গণধর্ষণের পর চিরকুট লিখে মাদরাসাছাত্রী আত্মহত্যার দুদিন অতিবাহিত হলেও এই ঘটনায় জড়িত বখাটেদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
গত মঙ্গলবার রাতে জেলার মুরাদনগর উপজেলার নব গঠিত বাঙ্গরা বাজার থানার সীমানারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার আগে ওই তরুণী তার মৃত্যুর জন্য একই গ্রামের তিন যুবককে অভিযুক্ত করে বাবা মায়ের উদ্দেশ্যে চিরকুট লিখে যান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আবদুল মোমেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চিরকুটে যে তিন বখাটের নাম উল্লেখ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার নির্দেশ দেন। এর পরই বিকেলে রুমির বাবা থানায় তিন বখাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে জেলার মুরাদনগর উপজেলার সীমানারপাড় গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে মাদরাসাছাত্রী রুমি আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের সময় তার হাতে একটি চিরকুট ছিল। চিরকুটে তিনি লিখেন, বাবু, সাকিব ও আক্তার তাকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। তাদের বিচার দাবি করেছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, চিরকুটে লেখা তিন বখাটে যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই রুমিকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনার জট খুলবে।
রুমির মা নাজমা আক্তার বলেন, আমার নিরপরাধ মেয়েটাকে হারালাম, বিচার পাবো কিনা জানি না, এখন উল্টো এলাকার প্রভাবশালীরা তিন যুবকের পক্ষ নিয়ে আমার মরা মেয়েটার চরিত্র নিয়ে নানা কুৎসা রটাচ্ছে।
বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন বলেন, ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে চিরকুটে উল্লেখ থাকা তিন যুবকের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
এদিকে, ঘটনাস্থল ঘুরে এসে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আবদুল মোমেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই চিরকুটে তিন যুবকের নাম থাকার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় তারা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। তিন যুবককে গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ভিকটিম আত্মহত্যার আগে ধর্ষিত হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মো. কামাল উদ্দিন/এএম/জেআইএম