তিনজন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় মফিজ


প্রকাশিত: ১২:৪২ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৭

নাটোর সদর উপজেলার লালমনিপুর গ্রামের দিনমজুর মফিজ উদ্দিনের স্ত্রী আর দুই ছেলে সন্তান নিয়ে সুখের সংসার ছিল। অভাব থাকলেও সুখের কমতি ছিল না তার কুড়েঘরে। হঠাৎ সুখের সংসারে নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আট বছর আগে হঠাৎ মফিজের স্ত্রী জোৎস্না বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে গুরুতর অসুস্থতায় মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি।

কিছুদিন পর একে একে তাদের দুই ছেলে জহুরুল ইসলাম ও রকিবুল ইসলাম একইভাবে অসুস্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সেই থেকে দরিদ্রতা আর সীমাহীন যন্ত্রণা মাথায় নিয়ে জীবনযাপন করছেন মফিজ উদ্দিন। বাড়ির ভিটা ছাড়া কিছুই নেই পরিবারটির। তাই অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না মফিজ উদ্দিন।

সরেজমিনে মফিজ উদ্দিনের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, কুড়েঘরের বাইরে অসহায় হয়ে পরে আছেন মফিজ উদ্দিনের স্ত্রী আর দুই সন্তান। উঠে বসার মতো শক্তি নেই তাদের। ধরে বসালেই কেবল বসতে পারে তারা। জোৎস্না বেগম তো আগেই কথা বলার শক্তি হারিয়েছেন। সাংবাদিকদের দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি অসহায়, আমার কোনো সম্পদ নাই। নিজে যা ইনকাম করি তা দিয়ে তিনটা প্রতিবন্ধী মানুষের আহার জোগার করার চেষ্টা করি। কোনো দিন তিনবেলা সবার মুখের আহার জোটাতে পারি, কোনো দিন তাও পারি না।’

কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে মফিজ উদ্দিনের বড় ছেলে জহুরুল ইসলাম শোনালেন তার কষ্টের কথা। ছোটবেলা থেকেই অন্যের বাড়িতে কাজ করে এসএসসি পাস করেন তিনি। হঠাৎ তার মা ও ছোট ভাইয়ের মতো তারও মাথা ঘুরতে ঘুরতে শরীর ভারী হতে থাকে। কিছুদিন পরে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে যায়। দরিদ্র হওয়ার কারণে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পারায় কিছুদিনের মধ্যে তার দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে যায়।

জহুরুল জানায়, আমরা সুস্থ হয়ে আর দশটা মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই। এক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য চাই।

আছিয়া খাতুন নামে এক প্রতিবেশী জানান, এক সময় সুন্দর চলছিল তাদের সংসার। অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও তেমন অভাব হত না খাওয়ার। হঠাৎ করে মা আর ছেলে দুটো অসুস্থ হয়ে গেল। এখন তারা খুবই অসহায়। আরেক প্রতিবেশী সাবিনা খাতুন বলেন, তিনজনে হাঁটতে তো পারেই না, ধরে না তুললে চলতে পারে না। খাওয়াতে হয় মুখে তুলে। সত্যিই তারা খুবই অসহায়।

আজিজুল ইসলাম নামের আরেক প্রতিবেশী বলেন, বাড়ির চারজনের তিনজনই প্রতিবন্ধী। তিনজনের মধ্যে দুজন প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। কিন্তু ভাতার সামান্য টাকা দিয়ে তারা চলতে পারে না। চিকিৎসা করার মতো অর্থ তাদের নেই। তাই বসে বসে মৃত্যুর দিন গুনছে তারা। সবাই যদি সম্মিলিতভাবে মফিজ উদ্দিনের পাশে দাঁড়াত তাহলে অসহায় পরিবারটা বেঁচে যেত।

নাটোর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি জেনেটিক্যালি সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য উচ্চতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসা করার চেষ্টা করব। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হবে।

রেজাউল করিম রেজা/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।