সাংগ্রাই জলোৎসবে মেতেছে মারমা তরুণ-তরুণীরা
রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলোৎসব শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে মং (ধর্মীয় ঘণ্টা) বাজিয়ে জেলা শহরের নারকেলবাগানে দিনব্যাপী জলোৎসবের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা।
ঘণ্টা বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই পানি ছিটিয়ে জল উৎসবের সূচনা করা হয়। এতে মারমা তরুণ-তরুণীরা মেতে ওঠেন সাংগ্রাই জল উৎসবে। পাশাপাশি দিনভর পরিবেশিত হয় বাংলাসহ পাহাড়ি জাতিসত্ত্বার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির নৃত্য সঙ্গীত।

সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা চিংকিউ রোয়াজার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। এতে বক্তব্য দেন রাঙামাটি সাংগ্রাই জল উৎসব-২০১৭ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মিন্টু মারমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর, রেমলিয়ানা পাংখোয়া ও মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মংচিং মারমা প্রমুখ।
প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে পুরনোকে বিদায় এবং নতুনের প্রার্থনায় তিনদিনের সামাজিক উৎসব পালন করে পাহাড়ি জনগণ। ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল অথবা বাংলা ২৯-৩০ চৈত্র ও নববর্ষের প্রথমদিন তাদের এই ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামজিক উৎসবটি চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক, রাখাইনরা চাংক্রান, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়া জনগোষ্ঠী বিহু নামে পালন করে। এ উপলক্ষে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলকেলি বা জল উৎসব পার্বত্য জনপদজুড়ে সৃষ্টি করে প্রাণের উচ্ছ্বাস।

মারমা সম্প্রদায়ের মতে, জলোৎসব দিয়ে পুরনোকে ধুয়ে মুছে নতুনের শপথ নিয়ে সামনে এগুনোর যাত্রা শুরু হয়ে থাকে। এ জল উৎসবের মধ্য দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয় অতীতের সব দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি ব্যর্থতা, পাপ, দীনতা, ছিন্নতা, সংকীর্ণতার।
সুশীল প্রসাদ চাকমা/আরএআর/জেআইএম