প্রধানমন্ত্রীর হাওর পরিদর্শন ঘিরে সুনামগঞ্জে মতবিনিময়


প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা পরিদর্শন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত সকল বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য দেন, সাংসদ মহিবুর রহমান মানিক, শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান, জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী আল-হেলাল, বিন্দু তালুকদার প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, আগামী রোববার (৩০ এপ্রিল) হেলিকপ্টারযোগে লো-ফ্লাইংয়ে অকাল বন্যায় বিধ্বস্ত সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা পরিদর্শন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওদিন বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন শেষে জেলার শাল্লা উপজেলার শাহিদ আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফসলহারা কৃষকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজে এসে বিশ্রাম নেয়ার কথাও সভায় জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর জেলার তাহিরপুরে এক কৃষক জনসভায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আর সুনামগঞ্জে আসা হয়নি। আগামী রোববার (৩০ এপ্রিল) সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় সফর এটি প্রধানমন্ত্রীর।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে ফসলহারা কৃষকদের মাঝে। তারা আশা করছেন কৃষকের জন্য সুখবর বয়ে আনবেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীকে দেখতে গত ১৬ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। হেলিকপ্টারে লো-ফ্লাইংয়ে দুর্গত হাওর পরিদর্শন শেষে ওদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। সার্কিট হাউজে রাতযাপন শেষে পরদিন আবারও হাওর পরিদর্শন শেষে বঙ্গভবনে ফেরেন তিনি।

উল্লেখ্য, অকাল বন্যায় বাঁধ ভেঙে কোথাও কোথাও বাঁধ না হওয়ায় গত ৩০ মার্চ থেকে একের পর এক হাওর তলিয়ে যাওয়ার পর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার লাখ লাখ বোরো চাষি নিঃস্ব হয়ে যায়।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর পক্ষ থেকে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণার দাবি করা হলেও আইন বলে সরকার তা আমলে নেয়নি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে হাওরবাসীকে বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জেলায় শতভাগ ফসলহানি হলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে বার বার দাবি করা হচ্ছে ক্ষতির পরিমাণ ৯০ ভাগ। এছাড়া বোরো ফসল ডুবে যাওয়ার পর সেখানে শুরু হয় মাছ, হাঁস ও অন্যান্য জলজ প্রাণির মড়ক।

ফলে বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরা নিষিদ্ধের পাশাপাশি পানিতে চুন ফেলে বিষক্রিয়া কাটানোর চেষ্টা করা হয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে।

রাজু আহমেদ রমজান/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।