কক্সবাজারে ডিসির বলী খেলায় দিদারের মুকুট ভাগ


প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৭

চট্টগ্রামের জব্বারের বলী খেলার ধারাবাহিকতা কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলায় ধরে রাখতে পারলেন না দিদার বলী।

জব্বারের বলী খেলার ১০৮তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হলেও কক্সবাজারে এসে মুকুট ভাগ করে নিতে হয়েছে তাকে। কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলার ৬২তম আসরে দিদার ও শামশু বলী যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তবে দর্শকদের বিচারে চ্যাম্পিয়ন, শামশু বলী।

দু’দিন ব্যাপী বলী খেলার শেষ দিন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে চ্যাম্পিয়ন মেডেলের খেলায় মুখোমুখী হন রামুর দিদারুল আলম দিদার বলী ও উখিয়ার শামশুল আলম শামশু বলী। প্রথম সাত মিনিট একজন একজনকে কৌশতে আটকাতে চাইলেও পারেননি। খেলা শুরুর সাত মিনিটের মাথায় শামশু দিদারকে কোমর দিয়ে ধরে আছাড় মারতে উদ্ধুত হলে সুটাম দেহের দিদার উপুর হয়ে মাটিতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে টানা ২৫ মিনিটি তাকে মাটি থেকে উঠার সুযোগ দেয়নি শামশু। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাকে উল্টে দিলেও নিজেকে মাটি থেকে আলগা করে নেন দিদার। পরে আরও ১০ মিনিট খেলতে দিয়েও কোনো ফলাফল না আসায় ৬টা ১৫ মিনিটে দু`জনকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা দেন বিচারক ডিএসএ সহ-সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সদস্য শফিকুর রহমান কোম্পানি।

Boli-Khala

তবে, বলী খেলা সচেতন দর্শকদের মতে, একজন প্রথম শ্রেণির বলীকে ২০ মিনিট মাটিতে লেপ্টে রেখে উঠতে না দেয়াও চাট্টিখানি কথা নয়। সে হিসেবে শামশু চ্যাম্পিয়ন।

কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে আয়োজিত খেলা শেষে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণীতে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনোয়ারুল নাসের, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপুসহ অন্যরা ।

Boli-Khala

বক্তারা বলেন, গ্রামীন এ প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে আগামীতে জেলার আট উপজেলায় বলী খেলা শেষ করে ডিসির বলী খেলা করা হবে। এতে প্রযুক্তির উৎকর্ষতা হলেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে নতুন নতুন বলী উঠে আসবে। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এসব খেলা চালাবেন বলেও ঘোষণা দেয়া হয়।

বলী খেলা উদযাপন পরিষদ সচিব ডিএসএ সদস্য পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন কবিরের সঞ্চালনায় খেলায় এ-ক্যাটাগরির যুগ্ম চ্যাম্পিয়নদের ১৫ হাজার, বি-ক্যাটাগরীতে চ্যাম্পিয়ন ১০ ও রানার্স আপ ৭ হাজার, সি-ক্যটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন ৭ ও রানার্স আপ ৫ হাজার টাকা সম্মানী ও মেডেল তুলে দেয়া হয়।

এসময় অতিরিক্ত সম্পাদক নুরুল আবছার, শফিকুর রহমান কোম্পানি, হারুন অর রশিদ, শাহীনুল হক মার্সাল, রাসেদ হোসেন নান্নু, শাহজাহান আনসারী, আলী রেজা তসলীম, খালেদ আজম, ওমর ফারুখ ফরহাদ, সুবীর বড়ুয়া বুলু, আমিনুল ইসলাম মুকুল, জসিম উদ্দিন ও খালেদা জেসমিন ও প্রাচীন বলীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালে এসডিও সাহেবের বলী খেলা হিসেবে এর যাত্র শুরু হয়। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ কক্সবাজার জেলায় উন্নীত হওয়ার পর এটি ডিসি সাহেবের বলী খেলা হিসেবে যুগ যুগ ধরে সমুদ্র নগরীর মানুষের বাঙ্গালীয়ানার বিনোদনের অংশ হিসেবে চলে আসছে।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।