বিদ্যুৎবিহীন সুনামগঞ্জ : সীমাহীন দুর্ভোগ
‘প্রচণ্ড গরমে গা ভিজে যাচ্ছে, বাহিরেও আলো-বাতাস নেই। ছাদের গরমও আসছে রুমের ভিতর। রাত পোহালেই ইসলাম ধর্ম পরীক্ষা। তাই সৌর বিদ্যুৎচালিত চার্জার লাইট দিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে।’
মঙ্গলবার রাতে জাগো নিউজের কাছে এসব কথা বলে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সৃজন বিদ্যাপীঠের স্ট্যান্ডার্ড থ্রি-এর শিক্ষার্থী রাবেয়া ইসলাম রিয়ামনি।
কালবৈশাখী ঝড়ে গত সোমবার রাতে সুনামগঞ্জ-ছাতক ৩৩ কেবি বিদ্যুৎ লাইনের অন্তত ১০টি খুঁটি উপড়ে পড়ে। বিধ্বস্ত হয় বাড়িঘর ও গাছপালা। এতে গত দুইদিন ধরে জেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। একদিকে অসহ্য গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎবিহীন এমন অবস্থায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে রোগীরাও।
শহরতলীর হাছননগর এলাকার বাসিন্দা নারী সাংবাদিক নাছরিন আক্তার ডলি জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় কাজ পারছেন না। পানির অভাবে রান্নার কাজ করতেও সমস্যায় পড়েছেন।

হাছননগর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক আল-হেলাল বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বাসায় পানি নেই। তাই প্রয়োজনীয় কাজে সমস্যা হচ্ছে। চলমান ঘটনার সংবাদ প্রেরণ করতেও খুব বেগ পেতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, জেনারেটর সাপোর্ট না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এ মুহূর্তে অপারেশনের কোনো রোগী নেই। থাকলে বড় ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সমস্যা তো হবেই। তবে অপরিহার্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে নাগাদ বিদ্যুৎ আসবে তা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ দ্রুতবেগে চলছে এবং শিগগিরই এর সুফল পাবেন গ্রাহকরা- এমন কথা জানিয়ে জেলার সর্বত্র মাইকিং করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ।
পিডিবির কর্মী সিরাজ মিয়া বলেন, আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ সেবা দিতে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত এর সমাধান হবে।
রাজু আহমেদ রমজান/আরএআর/আরআইপি