বাঁধ ভাঙার দায় অস্বীকার ঠিকাদার-ভাগিদারদের


প্রকাশিত: ০২:২৩ পিএম, ০৪ মে ২০১৭

সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের বাঁধ ভেঙে ফসলহানির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলকে দায়ী করেছেন ১৭ ঠিকাদার। বাঁধ ভাঙার পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), ঠিকাদার ও পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) কোনো দায় নেই বলেও তারা বলেছেন।

বাঁধের যেটুকু কাজ করছেন, সেই বিল না দেয়া কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্নও তুলেছেন তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান ঠিকাদাররা।

দুপুর ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার হলে এই সংবাদ করেন ঠিকাদার ও তাদের প্রতিনিধিরা। এ সময় লিখিত বক্তব্য দেন মেসার্স মালতী এন্টার প্রাইজের মালিক বিপ্রেশ রায়।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বিগত কয়েক দশকে চৈত্র মাসে সুনামগঞ্জে এত বৃষ্টি হয়নি। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এমন বিপর্যয় নেমে আসে। একমাত্র বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা এখন দিশেহারা।

তারা দাবি করেন, হাওরের বাঁধের ভাঙা অংশ সংস্কার করেন পিআইসির লোকজন। এ বছর বেশির ভাগ ফসলহানি পিআইসির বাঁধ ভেঙে ঘটেছে। সেই সঙ্গে ঠিকাদারদেরও দু-একটি বাঁধ ভেঙেছে। পাশাপাশি হাওরে জলাবদ্ধতার কারণেও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফসলহানির জন্য পাউবো, ঠিকাদার ও পিআইসি দায়ী নয়।

ঠিকাদাররা বলেন, এবার হাওরে ঠিকাদারদের প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কাজ ছিল। এখন পর্যন্ত প্রায় নয় কোটি টাকা বিল দেয়া হয়েছে। কাজ না করেই ঠিকাদারেরা বিল নিয়ে গেছেন, গণমাধ্যমে উঠে আসা এমন সংবাদ সত্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে থাকা ঠিকাদারেরা স্বীকার করে বলেন, কিছু হাওরে ঠিকাদারেরা কাজ করেননি এটা সত্য। কিন্তু তারা যে কাজ করেছেন তার বিল যেন দেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিস্তীর্ণ হাওরের ফসল রক্ষায় এবার পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ করেছে। তন্মধ্যে ৪৮কোটি টাকার ৭৬টি বাঁধের কাজ ছিল ঠিকাদারের, বাকি কাজ করেছে পিআইসি।

জেলায় এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের আবাদ হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, একলাখ ৬৬ হাজার ৬১২ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৮ কৃষক পরিবার। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে বার বার ক্ষতির পরিমাণ ৯০ ভাগ দাবি করলেও স্থানীয় কৃষক-জনপ্রতিনিধিরা তা মানতে নারাজ।

তাদের দাবি, এবার শতভাগ ফসলহানি হয়েছে। অন্যদিকে বোরো ফসল ডুবে যাওয়ার পর সেখানে শুরু হয় মাছ, হাঁস ও অন্যান্য জলজ প্রাণির মড়ক।

রাজু আহমেদ রমজান/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।