সাজেকে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ


প্রকাশিত: ১০:০৫ এএম, ০৫ মে ২০১৭

সাজেকে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, বিভাগ ও সংস্থা। এর মধ্যে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সাজেক ইউনিয়ন। আয়তনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় এ ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামে বসবাসকারী লোকজন হঠাৎ খাদ্য সংকটে পড়েছেন। বর্তমানে সেখানে অর্থনৈতিক সংকট প্রকট। সেখানকার লোকজন একমাত্র জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত মৌসুমে খরাসহ প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবে জুমচাষ ব্যাহত হয়ে পড়ে। ফলে এ মৌসুমে খাদ্য সংকটে পড়েন স্থানীয়রা। চলতি মৌসুম কেবল শুরু। ফসল পেতে সময় লাগবে আরও অন্তত চার মাস। তা ছাড়া জুমচাষের বিকল্প আয়-উপার্জন ও কর্মস্থান কিছুই নেই তাদের।

শুক্রবার এক প্রেস বিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সাজেক খুব দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। সেখানকার মানুষ নির্ভরশীল কেবল জুমচাষে উৎপাদিত ফসলের ওপর। বছরে জুমচাষ করে যা উৎপাদন করতে পারে তা দিয়ে তাদের জীবন-জীবিকা চলে। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, গত বছর প্রকৃতির বিরুপ আবহাওয়ার কারণে সেখানকার লোকজনের জুমচাষ ব্যাহত হয়। এতে ফসল উৎপাদন তেমন হয়নি। ফলে এ মৌসুমে খাদ্য সংকটে পড়তে হয়েছে তাদেরকে।

তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মানবিক বিবেচনায় দেখছে সরকার। সংকট মোকাবেলায় জরুরিভাবে পর্যাপ্ত খাদ্য ও অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এটিকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১০ মেট্রিক চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ১০ মেট্রিক টন বরাদ্দ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া দুর্দশাগ্রস্তদের সহায়তার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে নগদ ১০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসনের জিআর কর্মসূচি হতে ২০ মেট্রিক টন চাল দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী পক্ষ হতেও বিভিন্ন সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তা ছাড়া পরবর্তী চার মাসের জন্য পরিবার প্রতি মাসে ২০ কেজি করে চাল বিতরণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

rangamati

জেলা প্রশাসক বলেন, আশা করছি সংকট আর বেশি দিন থাকবে না। সংকট মোকাবিলার জন্য যা করা দরকার সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তার তৎপরতা শুরু হয়েছে।

জনা যায়, যোগাযোগ দুর্গমতার কারণে জুমে উৎপাদিত খাদ্য শস্য ছাড়া বাইরের থেকে খাদ্য আমদানির সুযোগ নেই সাজেকে। ফলে জুমচাষ ব্যাহত হলে সেখানে দেখা দেয় খাদ্য সংকট। চলতি বছর গত প্রায় দুই মাস আগেই সেখানে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। জঙ্গলের আলু, কচু, কলাগাছ খেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন পার করতে হয়েছে অভাবিদের। গোটা সাজেকে ছড়িয়ে পড়ে নীরব দুর্ভিক্ষ। সংকটে পড়ে সেখানকার প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা ও ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরুর দিকে সাজেকে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেন তারা। উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এপ্রিলের শেষের দিকে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে পাঁচ মেট্রিক টন চাল অভাবগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্গতদের সহায়তার জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে।

এদিকে খবর পাওয়ার পরপরই বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেয় সরকারের বিভিন্ন দফতর, প্রশাসনিক বিভাগ ও সংস্থা। ত্রাণ সহায়তায় এগিয়ে আসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।