শতবর্ষী বটগাছ পাহাড়ের আরেক সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র
কালের বিবর্তণে শতবর্ষী বটবৃক্ষকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা কল্প-কাহিনী। কখনো তা আনন্দের আর কখনো ভয়ের, আবার কখনো তা ঘুমপাড়ানি পিসি-মাসি, কখনো তা রোগমুক্তি জায়গা হিসেবে। আর এ সবকিছুই ছিল কল্পনা নির্ভর কোনো কাহিনী। কল্প-কাহিনী যা-ই হোক শতবর্ষী এই বটবৃক্ষকে ঘিরে সময়ের ব্যবধানে গড়ে উঠতে শুরু করেছে এক সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র।
মাটিরাঙা উপজেলা সদর থেকে ৭ কি.মি. উত্তরে অবস্থান শতবর্ষী বটগাছের। এই একটি শতবর্ষী বটগাছকে ঘিরেই জায়গাটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বটতলী’। পাহাড়, উপত্যকা, ঝর্না, সুড়ঙ্গের রাণীখ্যাত পার্বত্য খাগড়াছড়ির আরেক সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ‘শতবর্ষী বটগাছ’। ছোট্ট একটি গ্রামকে আলোকিত করেছে এ ‘শতবর্ষী বটগাছ’। ইতোমধ্যেই সেখানে গড়ে উঠেছে মাধ্যমিক-প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা, একটি ছোট বাজার।
মাটিরাঙা উপজেলা সদর থেকে মূল সড়ক ছেড়ে সবুজে মোড়ানো মাটিরাঙা-গোমতি পিচঢালা সড়ক ধরেই কয়েক কিলোমিটার গেলেই বটতলী। অল্প-স্বল্প পাহাড়ী পথ পেরিয়ে নিমিষেই আপনি পৌঁছে যাবেন শতবর্ষী বটগাছের ছায়াতলে। দূর থেকে অনেকগুলো গাছ মনে হলেও, কাছে যেতেই দেখবেন পুরোটাই একটা বৃক্ষ।
মাতৃবৃক্ষ থেকে মাটিতে নেমে আসা প্রতিটি ডালপালা মাটিতে মিশে কালের পরিক্রমায় এক একটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। মাতৃবৃক্ষ থেকে নেমে আসা ডালপালা থেকে সৃষ্ট প্রতিটি শাখা-প্রশাখা যেন মাতৃবৃক্ষের সঙ্গে সন্তানের মতো জড়িয়ে আছে আপন মমতায়।
20170519101117.jpg)
পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিধাতার সৃষ্টি এ বটবৃক্ষের ছায়া। অসংখ্যা শেকড় ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল অংশ জুড়ে। বটগাছের উপরে তাকাতে চোখ আটকে যায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য শাখা-প্রশাখার বিস্তার দেখে। প্রায় এক একর জায়গার এই শতবর্ষী বটবৃক্ষের ব্যাপ্তি দেখে বিস্মিত হবে যে কেউ। বটবৃক্ষের উপর দিয়ে সূর্যের আলো ঢুকছে। আর মাতৃবৃক্ষের শাখা-প্রশাখার ফাঁক গলে সেই আলো ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। বটবৃক্ষের নিচে দাঁড়ালেই মনে হবে প্রকৃতির এ বিস্ময় কোনো এক পাহাড়ী জনপদে প্রতিনিধিত্ব করছে শত শত বছরের!
মাটিরাঙা উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি আলুটিলা-বটতলী এলাকায় এ প্রাচীন শতবর্ষী বটবৃক্ষটি শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয় এ যেন দর্শনীয় আশ্চর্যের কোনো উপাদান। এক একরেরও বেশি ভূমির উপরে এ গাছটি হাজারো পর্যটকের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। ইতোমধ্যে শতায়ুবর্ষী বটবৃক্ষকে ঘিরে সে এলাকাকে ‘পর্যটন কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে ‘শতবর্ষী বটগাছ’ এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেন। পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নে পৌরসভায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উদ্যোগর অংশ হিসেবে একাধিক গোল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে আগত পর্যটকদের জন্য। পর্যটন কেন্দ্রের আকর্ষণ বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে একটি ঝুলন্ত সেতু। পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে নিরাপদ পানি সরবারাহে ‘ওয়াটার সাপ্লাই’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেখানে আগত পর্যটকদের জন্য একটি ক্যান্টিন কাম রিসোর্ট নির্মেণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি.এম মশিউর রহমান।
20170519101149.jpg)
যেভাবে যাবেন
রাজধানী শহর ঢাকা থেকে সরাসরি বাস সার্ভিস রয়েছে খাগড়াছড়িতে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে যেকোনো বাসে সরাসরি মাটিরাঙা নামতে হবে। বাস থেকে নেমে মাটিরাঙা বাজার থেকে সিএনজি বা মোটরসাইকেল চড়ে যেতে হবে শতবর্ষী বটমূলে। অবশ্য ব্যক্তিগত গাড়িতে (প্রাইভেট কার বা মাইক্রো) করেও যেতে পারবেন সেখানে। এছাড়াও খাগড়াছড়ি শহর থেকে সরাসরি চাঁন্দের গাড়ি, সিএনজিতেও যাওয়া যায়।
তবে শতবর্ষী বটবৃক্ষ দেখতে আসার আগে অবশ্যই প্রয়োজনীয় খাবার সঙ্গে নিয়ে আসবেন। শতবর্ষী বটবৃক্ষ ভ্রমণে যে কোনো তথ্য এবং সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন স্থানীয় কাউন্সিলর মো. এমরান হোসেনের সঙ্গে ০১৭৯৩ ১৮৬৭০৭ এই নম্বরে।
এফএ/পিআর