প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দিল প্রবাসী প্রেমিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:০৩ এএম, ২১ মে ২০১৭

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া গ্রামের লন্ডন প্রবাসী প্রেমিক রুবেল মাঝি (৩০) প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটের সাহায্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন ঘটনায় দশম শ্রেণির ছাত্রী ওই প্রেমিকার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছে বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানান, পশ্চিম হাঁসাড়া গ্রামের আওলাদ মাঝির ছেলে রুবেল মাঝির সঙ্গে কয়েক বছর আগে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে রুবেল লন্ডন চলে যায়। এসময় প্রেমিকার জন্য আত্মীয়ের মাধ্যমে আধুনিক একটি মোবাইল ফোন পাঠায় রুবেল। এরপর থেকেই রুবেল ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও কল করে কথা বলতো প্রেমিকার সঙ্গে।

একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কের কথা রুবেলের পরিবার জানতে পারে এবং বাধা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সে প্রেমিকাকে জানিয়ে দেয় পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এনিয়ে উভয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটি হয়।

এরই জের ধরে রুবেল বিভিন্ন সময় ধারণ করা প্রেমিকার গোপনীয় কিছু ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। যা দ্রুত স্থানীয়ভাবে ভাইরাল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের কাছ থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও পেয়েছিলাম। যা খুবই আপত্তিকর। সেগুলো তদন্ত করে দেখার জন্য স্থানীয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনা সত্য হলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আলমগীর হোসেন জানান, এ বিষয়ে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তারা চাচ্ছেন যাতে ছেলে আর কোনো ছবি বা ভিডিও আপলোড না করে। আমরা ছেলের পক্ষের অভিভাবকদের ডেকে বলে দিয়েছি যেন এ জাতীয় ঘটনার পূনরাবৃত্তি না হয়।

তিনি আরো বলেন, ছেলে লন্ডনে অবস্থান করছে। আর সেখান থেকেই ভাইবারের মাধ্যমে কথা বলে এসকল আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ধারণ করে। সে বিদেশ অবস্থান করায় মামলার প্রক্রিয়াটা একটু জটিল। তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :