উদ্বোধনের অপেক্ষায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু


প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ২৩ মে ২০১৭

লালমনিরহাট জেলার চারটি উপজেলাসহ বৃহত্তর রংপুরের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন কাকিনা-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু।

স্বপ্ন পূরণের মধুরক্ষণ গণনার শেষ মুহূর্তে তিস্তা পাড়ের রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার মানুষ এখন আনন্দে উদ্বেলিত। শুভ উদ্বোধনের অপেক্ষায় তারা।

প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত এই সেতুটি রংপুর অঞ্চলের কোটি মানুষের আর্থ-সামাজিক ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও ভাগ্যোন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।

লালমনিরহাটের কাকিনা ও রংপুরের মহিপুরের মধ্যে সড়কপথে সরাসরি চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর মূল কাঠামোর অন্তত ৯৮ ভাগ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

বাকি ২ ভাগসহ অন্যান্য কাজ শেষ করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

tista

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি ও নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের প্রতিনিধি সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করে। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ৯ দশমিক ৬০ মিটার প্রস্থের এই সড়ক সেতুর দুইপাশে রেলিংসহ ২ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থের ফুটপাত রয়েছে।

তিস্তা দ্বিতীয় সড়ক সেতু উদ্বোধন হলে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটি আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার মানুষ কম সময়ে বিভাগীয় শহর রংপুর ও রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

সেতুটি চালু হলে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে রংপুর যেতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে। বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে মালামাল খুব সহজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছা যাবে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু তালেব বলেন, সেতুটি চালু হলে অল্প সময়ে রোগীদের রংপুরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাবে।

second

কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুরজ্জামান আহমেদ বলেন, কাকিনা-মহিপুর সড়ক সেতু লালমনিরহাট জেলাবাসীর স্বপ্ন পূরণের মাইল ফলক। এই নবনির্মিত সেতুটি উদ্বোধন করা হলে লালমনিরহাট জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দুই ঘণ্টার দূরত্ব কমে যাবে।

মহিপুরঘাটের ইজারেদার দুলাল মেম্বর জানান, তিস্তা সেতুর কাজ প্রায় শেষ, উদ্বোধনের অপেক্ষা আছি। 

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ খান বলেন, সেতুটির মূল অবকাঠামোর ৯৮ ভাগ নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। সেতুটিতে লাইটপোস্ট স্থাপনসহ টুকিটাকি কাজ বাকি আছে। আগামী মাস মধ্যে এসব কাজ শেষ হবে।

নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশল মকবুল হোসাইন মিয়া বলেন, সেতুটির বাকি ২ ভাগ কাজ শেষ করে জুন মাসের মধ্যে সেতুটি এলজিইডিকে হস্তান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট জেলা কালেক্টরেট মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের ডাকা এক জনসভায় কাকিনা-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

রবিউল হাসান/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।