বাহরাইনে নিহত সন্তানকে দেখতে চান মা


প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ২৪ মে ২০১৭

বাহরাইনের মোহাররা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত মাদারীপুরের শিবচরের শাওনের পরিবার শোকে স্তব্ধ। পরিবারের উপার্জনের অন্যতম ব্যক্তিকে হারিয়ে হাহাকার নেমেছে পুরো পরিবারে। প্রিয় মুখটি শেষ দেখা দেখতে শাওনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে স্বজনরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারে সচ্ছলতা আনতে প্রায় তিন বছর আগে ৬ কাঠা জমি বিক্রি করে বাহরাইনে পাড়ি জমান উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে শাওন মিয়া।

আট ভাই-বোনের মধ্যে ৬ষ্ঠ ছিলেন শাওন। তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজ। বাহরাইনে গিয়ে কাজ শুরু করে পরিবারের চাহিদাও মেটাতে শুরু করেন। প্রায় ৮ মাস আগে দেশে ফিরে এসে একই ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামে পলি নামের একটি মেয়ে বিয়ে করেন।

বিয়ের এক মাস পরেই আবার বাহরাইন ফিরে যান। বাহরাইনের মোহাররা এলাকার কাজিনো গার্ডেনের পাশে একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অন্যান্য বাঙালিদের সঙ্গে শাওন বসবাস করতেন।

গত মঙ্গলবার সকালে বহুতল ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শিবচরের শাওন মিয়া (২৭), শরীয়তপুরের জাজিরার বিকিনগর এলাকার কদম মাদবর গ্রামের সালাম মাতব্বরের ছেলে সুমন ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর এলাকার কবির মিয়ার ছেলে হারুন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।

শাওনের মৃত্যুর খবরে তার পরিবারে নেমে এসেছে হতাশা। পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছে পুরো পরিবার।

বৃদ্ধা মা সুরাইয়া বেগম যেন হয়ে গেছে বাকরুদ্ধ। প্রিয় মানুষটিকে শেষ দেখা দেখতে তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

শাওনের মা সুরাইয়া বেগম বলেন, সন্তানের মুখতো জীবিত অবস্থায় আর দেখা হলো না। তার মৃত মুখটা এক নজর দেখতে চাই। তার মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনে এটাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি।

এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।