কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ


প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ৩০ মে ২০১৭

কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় তাণ্ডবলীলা শুরু করে বেলা ১২টা নাগাদ কুতুবদিয়া দিয়ে শেষ করেছে এর প্রস্থান।

এসময় থেমে থেমে ৮০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে আঘাত হানে মোরা। বাতাসের তোড়ে সাগর উত্তাল থাকলেও সকালে সাগরে ভাটা থাকায় ব্যাপক প্রাণহানী থেকে বেঁচে গেছেন কক্সবাজারবাসী।

কিন্তু এরপরও মোরার তাণ্ডবে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে কক্সবাজার উপকূলের সোয়ালাখেরও বেশি কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর।

উপড়ে পড়েছে অগণিত গাছপালা। ব্যাপকহারে বিদ্যুতের খুটি ভেঙে পড়ায় পুরো কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে বাড়ি-ঘর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

এসময় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় আতঙ্কিত হয়ে এবং ঘরের চালায় গাছ পড়ে কক্সবাজারে মারা গেছেন নারীসহ ৫ জন।

তারা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ৬নং জেডিঘাট এলাকায় বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৫৫), চকরিয়ার বড়ভেওলা এলাকার মৃত নূর আলম সিকদারের স্ত্রী সায়েরা খাতুন (৬৫), একই উপজেলার ডুলাহাজারার পূর্ব জুমখালী এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে রহমত উল্লাহ (৫০), পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় উজানটিয়া ইউনিয়নের নতুন ঘোনা পেকুয়ারচর এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে আবদুল হাকিম সওদাগর (৫৫), এবং সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের শাহাজাহানের মেয়ে শাহিনা আকতার (১০)। এসময় আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক লোকজন। তাদের জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এসব ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে জেলা প্রশাসন আট উপজেলায় ক্ষতির তীব্রতা দেখে জিআর ফান্ড থেকে প্রায় একশ ১০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আট উপজেলায় নগদ ৯ লাখ বিতরণ করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে ৭শ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী। ৩ হাজার কেজি চিড়া, ২শ কেজি গুড়।

কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, রামু, উখিয়া ও সদরে উপজলা প্রশাসন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেও সেন্টমার্টিন এলাকায় নৌ-বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবেলায় দুর্যোগকালীন সময় ও তৎপরবর্তী করণীয় নির্ধারণ, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে আসা নারী-পুরুষ-শিশু ও বৃদ্ধদের দেখভাল করতে কক্সবাজার জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

এ কারণে বেলা ১২টা নাগাদ মোরার তাণ্ডবলীলা অভারকাম করা সম্ভব হয়েছে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে উপকূলের জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিরা কাজ করায় ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের জান-মাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মজুদ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়তি সহযোগিতার জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলায় ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই লাখের অধিক মানুষ আশ্রয় নেয়। তাদের পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয়। স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করেছে ৮৮টি মেডিকেল টিম। এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।