ঝালকাঠিতে বিড়ি কারখানায় শিশু শ্রমিক, ঝুঁকিতে স্বাস্থ্য
ঝালকাঠি শহরের পূর্বচাঁদকাঠি এলাকার জেলেপাড়ায় রয়েছে কারিকর বিড়ি তৈরির কারখানা। কারখানায় বয়স্ক নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করছে শিশু-কিশোররাও। নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানার মধ্যে থাকছে তাদের শিশু সন্তানরা। এতে তামাকের গন্ধে শিশু স্বাস্থ্য রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। এরা ধুমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার না করলেও তামাকের ক্ষতি থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউই।
কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, শিশু হিসেবে মায়ের সঙ্গে কারখানায় রয়েছে বনিয়া বেগমের ১১ মাস বয়সী শিশু মো. ইয়াছিন তালুকদার, জেসমিন বেগমের সঙ্গে ১৮ মাস বয়সী মুনা, আছিয়া বেগমের সঙ্গে ১৮ মাস বয়সী আসিফ ও শেমালা বেগমের সঙ্গে রয়েছে ১৪ মাস বয়সী সাফিন।
শিশু শ্রমিক হিসেবে গুড়া তামাক থেকে প্যাকেটজাতকরণ প্রক্রিয়ার কাজ করছে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে ৪ বছর বয়সী ঝুমা, মর্জিনা বেগমের (নানী) সঙ্গে ৬ বছর বয়সী ইরা, ৩য় শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া, ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. হৃদয়, কাজল আক্তার, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু, মীম, রিয়াজ, বায়েজিদ, ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মুন্নি আক্তার ও ১০ম শ্রেণির ছাত্রী শিউলী আক্তার। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে ঝরে পড়া রাতুল (১৩) ও কাজল (১২)।

৮ম শ্রেণির ছাত্রী মুন্নি আক্তারের মা পিয়ারা বেগম ও ১০ম শ্রেণির ছাত্রী শিউলী আক্তারের মা হেনারা বেগম বলেন, আমরা এখানে কাজ করি কমিশনে (প্রডাকশন অনুযায়ী), নির্ধারিত বেতনে না। বেশি টাকা আয় করতে হলে কাজ বেশিই করতে হয়। এরমধ্যে আবার নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে মাসিক টার্গেট রয়েছে। টার্গেট পুরণের জন্য কাজের চাপ কমাতে মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে এসেছি।
কারিকর বিড়ি কারখানার ব্যবস্থাপক রতন দত্ত বলেন, আমাদের এখানে কাজর চাপ আছে ঠিকই, কিন্তু শিশুদের আনার বা রাখার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই। এটা সম্পূর্ণই মায়েদের ইচ্ছা। তবে শিশুদের আলাদা সংরক্ষণের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।
ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক শিরীন শারমিন জানান, প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষদের চেয়ে শিশুদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। দীর্ঘদিন কাজ করলে সবাই বার্জার ও ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত করতে পারে। তবে এর মধ্যে শিশুদের ঝুঁকি বেশি।

ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম দাস জানান, তামাক সেবন ও তামাকজাত পণ্যে কাজ করার ক্ষতিকর দিক প্রায় সমান। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকটা বেশি। বিশেষ করে শিশুদের রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরো অনেকগুণ বেশি। এ কারণে অ্যাজমা, হৃদরোগ, ব্রঙ্কাইটিস ও হাপানি রোগ হতে পারে।
সেভ দ্যা চিলড্রেন ঝালকাঠি শাখার সিনিয়র ব্যবস্থাপক ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, এ ধরনের কাজে শিশুদের ব্যবহার মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
এফএ/পিআর