ভালো দাম পেয়ে খুশি শরীয়তপুরের বোরো চাষিরা


প্রকাশিত: ০৩:৩৩ এএম, ৩১ মে ২০১৭

ভারিবর্ষণে বেশ কিছু এলাকার বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেলেও শরীয়তপুরের বাজারে বোরো ধানের দাম গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। দাম বেশি পেয়ে সন্তুষ্ট বোরো চাষিরাও। কৃষকরা এখন ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলার ছয়টি উপজেলায় বোরো ধান চাষের জন্য ২৮ হাজার ৫১২ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ২৮ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।

কয়েকবার ঝড়ো হাওয়া হলেও বোরো ধান চাষে তেমন প্রভাব পড়েনি। পুরো উদ্যমে কৃষকরা বোরো ধান চাষ করেছেন। আর এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫২ হেক্টর জমিতে কম অর্জিত হলেও দাম বেশি পাওয়ায় সন্তুষ্ট বোরো চাষিরা।

জেলার ছয়টি উপজেলার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ধান জমি থেকে কেটে প্রতি মণ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রতি মণ বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৮০ টাকায়। যা গত বছরের তুলনায় বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দরে।

শরীতপুর সদর উপজেলার দাসার্ত্তা গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান মুন্সী বলেন, এ বছর বোরো ধান ভালো হয়েছে। আমরা এখন ধান কাটায় ব্যস্ত। বাড়ির নারীরাও আমাদের সহযোগিতা করছে।

ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের কৃষক খোকন সরদার বলেন, এ বছর তিনি ৮ একর (৮০০ শতাংশ) জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। ৮ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করতে তার ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

কৃষক খোকন সরদার বলেন, ৮ একর (৮০০ শতাংশ) জমিতে বোরো ধান পেয়েছি ৬০০ মণ। যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে সমস্ত খরচ দিয়ে তার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ হবে। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি দুই শতাংশে লাভ হবে ২০০ টাকা। এছাড়াও ৮ একর (৮০০ শতাংশ) জমির বোরো ধানের খড় বিক্রি করলে ৩০ হাজার টাকার মত আসবে বলে জানান তিনি।

গোসাইরহাট উপজেলার গোসাইরহাট ইউনিয়নের কৃষক মুজাফ্ফর হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধানের চাষ ভালো হয়েছে। ভালো দামও পাচ্ছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের স্যারেরা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। আশা করছি এবার ধান বিক্রি করে কৃষিঋণ পরিশোধ করতে পারব।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. রিফাতুল হোসাইন বলেন, জেলায় এ বছর ২৮ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এ বছর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ঝড়ো হাওয়া একটু বেশি হলেও যথাসময়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। তাই এ বছর বোরো ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫২ হেক্টর কম অর্জিত হলেও দাম বেশি পাওয়ায় বোরো চাষে লাভবান হবেন চাষিরা।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।