‘আমার কিছু হলে তার জন্য ওসমান পরিবার দায়ী’


প্রকাশিত: ০২:৪৩ পিএম, ৩১ মে ২০১৭

আমার নিরাপত্তা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন আমার কোনো নিরাপত্তা নেই। তাই আমি চরমভাবে শঙ্কিত। কখন কী ঘটে বলতে পারছি না। আমার জীবনে কিছু ঘটলে তার জন্য ওসমান পরিবার দায়ী থাকবে।

বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আলোচিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি কখনও অন্যায় করি নাই এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই নাই। আমি একটি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাবরণ করেছি। এটা আমার ভাগ্যে ছিল। আপনারা মনে রাখবেন যদি আমার কোনো কিছু ঘটে তাহলে মনে করবেন ওসমান পরিবার থেকে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান প্রকাশ্যে আমাকে কান ধরে ওঠবস করিয়েছেন। আমাকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আর সেই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আমার স্কুলের এক শিক্ষিকাকে দিয়ে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় আমাকে কারাবরণ করতে হয়েছে।

এছাড়া গত ১ এপ্রিল থেকে আমার নিরাপত্তা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। কেন আমার ওপর এমন অবিচার করা হচ্ছে সরকারের কাছে আমি জানতে চাই। আর আমাকে অপমান করেছে পুরো দেশবাসী সত্য জানে। আমি গণমাধ্যমের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তারা সত্যটা তুলে ধরেছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান শ্যামল কান্তি ভক্ত। ওই সময় কারা ফটকে শ্যামল কান্তির স্ত্রী সবিতা রানী হালদার, তার আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামল কান্তির স্ত্রী সবিতা হালদার বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতির কাছে এই মামলা থেকে শ্যামল কান্তিকে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। আমার স্বামীকে যাতে আর কোনো হয়রানি না করা হয় সে দাবিও রাখছি।’

এদিকে একটি ঘুষের মামলায় কারাবন্দি বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে শুনানি শেষে এ জামিন প্রদান করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ মে শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে ওঠবসের ঘটনার দুই মাসের মাথায় ওই বছরের ১৪ জুলাই এমপিওভুক্ত করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের কাছ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে মামলা হয়।

দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ চারজনকে সাক্ষী দেখিয়ে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এমপিওভুক্ত করে দেয়ার জন্য শ্যামল কান্তি ভক্তকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন ইংরেজি শিক্ষক মোর্শেদা বেগম।

এরপর আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে আরও ১ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু সে শিক্ষক মোর্শেদা বেগমের এমপিওভুক্তের দরখাস্ত কোনো স্থানেই প্রেরণ করেনি।

পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলে তিনি ২০১৬ সালের ১২ মে কোনো টাকা নেয়নি বলে অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে মোর্শেদা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে বন্দর সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্তও করেছেন। গত ২৪ মে শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেদিন শ্যামল কান্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।