ট্রাকচাপায় আসামির মৃত্যু : চার পুলিশ প্রত্যাহার
পুলিশের কাছ থেকে পালানোর সময় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার গোপীনাথপুরে ট্রাকচাপায় রিপন চন্দ্র দাস (২৩) নামের এক আসামির মৃত্যুর ঘটনায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদেরকে প্রত্যাহার করে গাইবান্ধা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাইবান্ধার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল আলম রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ সদস্য হলেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহম্মেদ, কনস্টেবল নার্গিস বেগম, মোস্তাফিজার রহমান ও শাহানুর রহমান।
সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে রিপন চন্দ্র দাস হাতিয়া গ্রামের একটি মেয়েকে (১৪) অপহরণ করে। এই ঘটনায় ওই মেয়েটির বাবা রিপন চন্দ্র দাসকে আসামি করে ৩১ মে রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরদিন ১ জুন দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক রাজু আহম্মেদের নেতৃত্বে কনস্টেবল নার্গিস বেগম, মোস্তাফিজার রহমান ও শাহানুর রহমান বগুড়ার কাহালু উপজেলা শহরের একটি বাড়ি থেকে ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এসময় রিপন চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করে একটি মাইক্রোবাসে করে সুন্দরগঞ্জে আনা হচ্ছিল।
পথে রিপন প্রস্রাব করার কথা বললে পুলিশ তাকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার গোপীনাথপুরে নামিয়ে দিলে রিপন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। সেসময় রংপুরগামী একটি ট্রাকচাপায় রিপন চন্দ্র দাস ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পরে রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় সড়ক দুর্ঘটনায় রিপন চন্দ্র দাস নিহত হওয়ার বিষয়ে একটি মামলা করেন।
এদিকে রিপনের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই মেয়েটির ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করে।
রিপনের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, ওই মেয়েটির পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগসাজস করে রিপনকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। রিপনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতেই তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এফএ/জেআইএম