ঝিনাইদহে বাসক বিপ্লব


প্রকাশিত: ০৪:৫০ এএম, ০৩ জুন ২০১৭

ঝিনাইদহ জেলার প্রায় ৩০টির অধিক গ্রামে ওষধী গাছ বাসকের চাষ করে বাড়তি আয় করছে কয়েকশ পরিবার। এ গাছ লাগানোর ফলে একদিকে যেমন তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অন্যদিকে দেশের সবুজ বনায়নেও রাখছেন অবদান।

কুশনা গ্রামের ইলিয়াস উদ্দিন জানান, প্রথমদিকে গবাদিপশুর হাত থেকে জমি রক্ষার জন্য বেড়া ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ লাগানো হলেও এখন ধারণা পাল্টেছে গ্রামবাসীর। এ অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি বাসক চাষের উপযোগী হওয়ায় এখন রাস্তা ও বাড়ির পাশের পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বাসক চাষ করছেন তারা।

Jhenidah-bashok

একই গ্রামের মমতাজ বেগম জানান, বছরে কমপক্ষে দুইবার এই বাসকের পাতা বিক্রি করা যায়। বাড়ির উপরেই আসে বিভিন্ন ওষুধ কম্পানিগুলো। সুতরাং বিক্রির কোনো সমস্যা নেই। কমপক্ষে দুই হাজার টাকার পাতা তো বিক্রি হয়ই এক বছরে। এক কেজি পাতার দাম ১৪০ টাকা। যত পাতা তত টাকা। এ গাছ একবার লাগালেই হয় আর দ্বিতীয়বার লাগাতে হয় না।

কুলাগাছা ব্লক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনছার আলী জানান, বহুকাল থেকে ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বাসক পাতা। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এর ব্যবহার বেশ প্রসিদ্ধ। আগে আমাদের দেশে প্রাকৃতিকভাবেই এ ওষধী গাছ জন্মালেও এখন এটি সহজলভ্য নয়। কিন্তু ঝিনাইদহে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। সম্প্রতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা মিলছে বাসক পাতার।

Jhenidah-bashok

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহ্ মোহা. আকরামুল হক জানান, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসে কৃষকদের কাছ থেকে এ পাতা নিয়ে যাচ্ছেন। এতে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। গ্রামের রাস্তার দুই ধারে সবুজের সমারোহ।এ অঞ্চলে বাসক পাতা চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

তার মতে এ অঞ্চলের কৃষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে তারা আরও লাভবান হবেন। পাশাপাশি দেশীয় ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল যোগানে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। তবে কতটুকু জমিতে এ চাষ বর্তমানে হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট সমীক্ষা নেই।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।