কুষ্টিয়ায় ১৫ দিনেও সন্ধান নেই বিএনপি নেতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ এএম, ০৪ জুন ২০১৭

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ১৫ দিন পরও সন্ধান মেলেনি বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীসহ দুই ব্যক্তির। এ ঘটনায় দুই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও তা নেয়া হয়নি।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে পরিবারের লোকজন নিজেরাই হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন ওই দুই ব্যক্তিকে।

নিখোঁজ বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী (৪৭) কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে এবং সাইফুল (৪০) ইসলাম একই এলাকার মৃত দাউদ প্রামাণিকের ছেলে।

লিয়াকত মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আর সাইফুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। গত ১৯ মে দিবাগত রাত একটার দিকে ভেড়ামারার লালন শাহ সেতুর টোল প্লাজায় তাদের বাস থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবারের এক সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, লিয়াকত আলী চিকিৎসার জন্য গত ২৩ এপ্রিল ঢাকায় যান। ১৯ মে সন্ধ্যা সাতটায় ঢাকা থেকে ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। আসন নম্বর ছিল এফ-১। পাশের আসনে ছিলেন সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, রাত একটার দিকে লিয়াকত মুঠোফোনে স্ত্রী কাজল রেখাকে বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি ভেড়ামারায় পৌঁছাবেন। তবে দেড়টার পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় ২০ মে সকালে ওই পরিবহনের কাউন্টারে যান পরিবারের সদস্যরা।

তিনি আরও জানান, সুপারভাইজার ও বাস চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালন শাহ সেতু টোল প্লাজায় গতি রোধ করে সাদা পোশাকে দুজন বাসে উঠে লিয়াকত ও সাইফুলকে হাতকড়া পরিয়ে নিচে নেমে যায়। তখন নিচে একটি গাড়ির পাশে পুলিশের পোশাকে আরও তিনজন দাঁড়িয়ে ছিলেন।

নিখোঁজদের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিতে পরে তারা টোল প্লাজা পুলিশ ক্যাম্পে যান। তবে সেখানকার পুলিশ সদস্যরা বাস থামিয়ে কাউকে আটকের কথা অস্বীকার করেন। এরপর তারা দুপুরে ভেড়ামারা থানায় ঘটনা জানিয়ে জিডি করতে চাইলেও ওসি তা গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, যেহেতু নিখোঁজ দু’জনের বাড়ি দৌলতপুর থানা এলাকায়, সেহেতু ওই থানায়ই জিডি করতে হবে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন খন্দকার বলেন, ‘লালন শাহ সেতুর কাছ থেকেই ওই দুজনকে পুলিশ নিয়ে গেছে, তাদের (পরিবারের) কাছে এমন কী প্রমাণ আছে? এটা খুব স্পর্শকাতর বিষয়। এ জন্য আমরা জিডি নিতে পারিনি’। বাসের চালক ও সুপারভাইজারের বরাত দেওয়ার কথা বললে ওসি বলেন, ‘এটা ক্লিয়ার হতে হবে। তা ছাড়া কিছু বলতে পারছি না’।

দৌলতপুর থানার ওসি শাহ দারা খান বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি তারা ঢাকা থেকে রওনা দেওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছেন। তাই ঢাকায় জিডি করতে হবে। আর তারা যদি ভেড়ামারা থেকে নিখোঁজ হন, তাহলে ওই থানায় জিডি করতে হবে। ভেড়ামারা থানা কেন জিডি নিচ্ছে না, এটা আমি বলতে পারব না’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাইফুলের এক চাচাতো ভাই বলেন, পুলিশের কাছে গেলে তারা কিছুই জানে না বলে জানাচ্ছে। পুলিশ শুধু এইটুকু বলছে, আপনারা খোঁজেন, আমরাও খুঁজি।

দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লিয়াকত বিএনপির রাজনীতি করেন। ২০০৩ সালে তিনি ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা হয়। এর একটিতে তিনি জামিনে আছেন। সাইফুল ইসলামের নামেও দেড় বছর আগে ঢাকায় একটি মাদকের মামলা হয়। সেই মামলায় তিনিও জামিনে আছেন।

আল-মামুন সাগর/এমএমজেড/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।