হদিস নেই ৬৮ জেলের
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র কবলে পড়া মহেশখালীর ১৩২ জেলের মধ্যে এখনও ৬৮ জন জেলের হদিস মিলেনি। তারা বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন এ ব্যাপারে মঙ্গলবার (৬ জুন) বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। ঘরের কর্মক্ষম ব্যক্তিটির হদিস না মেলায় খাদ্যাভাব ও শোকে নাওয়া-খাওয়া ছেড়েছে পরিজনরা।
জেলে ও পরিজনদের দাবি, লোভী বহদ্দারদের কারণে দরিদ্র জেলেরা দুর্যোগে কূলে ফিরতে চাইলেও পারেনা। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয়, ঘটছে নিখোঁজের মতো ঘটনা।
উপজেলা প্রশাসনে বোটমালিকদের দেয়া তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় মোরা`র কবলে পড়ে মহেশখালীর ১৩২ জেলে নিখোঁজ হয়। এদের মাঝে মহেশখালীর ৪০ জেলেকে সাগর থেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় নৌ-বাহিনী। ভাসমান অবস্থায় কুতুবদিয়ার কাছাকাছি এলাকা থেকে উদ্ধার হয় ২২ জন জেলে। লাশ পাওয়া গেছে অপর ২ জনের। সেই হিসেবে ঘূর্ণিঝড়ে মহেশখালীতে নিখোঁজ ১৩২ জেলের মাঝে এখনও হদিস নেই ৬৮ জেলের। তাদের বেঁচে থাকা ও মৃত্যু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সোমবার বিকেলে মহেশখালী পৌরসভায় নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণকালে স্বজন হারানো পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় ত্রাণমন্ত্রী শোকার্ত লোকজনকে সান্ত্বনা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাসও দেন।
এসময় শোকার্ত লোকজনের উদ্দেশ্যে আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, একটু সতর্ক না থাকায় আপনাদের পরিবারে এত বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। নৌকা ডুবিতে নিজের বাবার মৃত্যুর কথা স্বরণ করে এমপি আরও বলেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে আগামীতে আমাদের আরও সর্তক হতে হবে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে একটি সুন্দর জীবন গঠনের জন্য কাজ করেন। আমরা আছি আপনাদের পাশে। যেকোনো সময় সহযোগিতা পাবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহেশখালীর এক ফিশিং ট্রলার মাঝি জানিয়েছেন, মালিক পক্ষের অতি লোভের কারণে এমন দুর্ঘটনা হচ্ছে। কোনো সতর্ক সংকেত দিলেই আমরা সাগর থেকে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে চাই, কিন্তু মালিক পক্ষ নিষেধ করার কারণে আর আসা হয় না। প্রশাসন মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বিপদের সময় জেলেদের সাগরে থাকতে বাধ্য করবে না মালিকপক্ষ।
জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম মাঝি জানিয়েছেন, যেকোনো দুর্যোগে এত জেলে নিখোঁজ হওয়ার দায় দায়িত্ব কে নেবে। মালিকপক্ষের কারণে তারা নিখোঁজ হয়। অতি মুনাফা করার জন্য জেলেদের সাগরে থাকতে বাধ্য করেছে লোভী বহদ্দাররা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, দুর্যোগের সময়ও জেলেদের কূলে আসতে বাধা দেয়ার কথাটি জানা ছিলনা। উদ্ধার জেলে বা অন্যদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানার চেষ্টা থাকবে। যদি স্বীকারোক্তি পাওয়া যায় তবে অভিযুক্ত বহদ্দারদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/আরআইপি