মা-ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি : মামলা তুলতে চাপ
মা ও সন্তানকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে এক অপহরণচক্র। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের গুলমাইজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অপহরণকারী হলেন নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের গুলমাইজ গ্রামের লতিফ ছৈয়ালের (পালক) ছেলে তুষার হোসেন (৪৫) ও বিঝারি ইউনিয়নের মগর গ্রামের লুৎফর মাওলানার ছেলে সোলাইমান ছৈয়াল।
অপহরণকারীরা গুলমাইজ গ্রামের আনোয়ার পেদার স্ত্রী রহিমা বেগম (২৯) তার ছেলে নিহাদ তামিমকে (৫) অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপহরণকারী তুষার হোসেন রহিমা বেগমের বাবার পরিচিত। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে রহিমা বেগমের বাড়িতে আসা যাওয়া করত তুষার। গত ২৪ মে সকালে রহিমা বেগম তার ছেলে নিহাদকে নিয়ে পাশের বাড়ি থেকে আসার সময় গুলমাইজ সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তুষার রহিমাকে ডাক দেয়। রহিমা কাছে গেলে তাকে চেতনানাশক ওষুধে অজ্ঞান করে সন্তানসহ অপহরণ করে ঢাকার মিরপুরে তুষারের বোনের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। গত ২৭ মে রহিমার জ্ঞান ফেরে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে।
রহিমা বাড়িতে আসতে চাইলে ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। সেই ভয়ে রহিমা তাদের নির্যাতন সহ্য করতে থাকে। গত ১ জুন বৃহস্পতিবার সুযোগ পেয়ে রহিমা তার বাবার কাছে ফোন দেয় এবং মিরপুর বাড়ির ঠিকানা দেয়। সেই মোতাবেক গত ২ জুন শুক্রবার পুলিশ নিয়ে রহিমা বেগম তার ছেলে নিহাদ তামিমকে উদ্ধার করে এবং সেই দিনেই তুষার হোসেন ও তার সহযোগী সোলাইমান ছৈয়ালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গত ৩ জুন শনিবার তুষার হোসেন ও সোলাইমান ছৈয়ালকে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় গত ১ জুন বৃহস্পতিবার রহিমার বাবা মন্নান খাকী বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা তোলার জন্য তুষার হোসেন ও সোলাইমান ছৈয়ালের পরিবার রহিমার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করছেন বলে জানা যায়।
গতকাল ৬ জুন মঙ্গলবার তুষার হোসেন ও সোলাইমান ছৈয়াল আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালতের বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে আবার জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
রহিমা বেগম বলেন, তুষার রুমাল আমার নাকে নিলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে আমার তিনদিন পর জ্ঞান ফেরে। তখন আমি দেখি মিরপুরে তুষারের বোনের বাসায় আছি। আমি বাড়িতে আসতে চাইলে আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে । আর এই ভয় দেখিয়ে সোলাইমান ছৈয়ালের সহযোগিতায় তুষার আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
রহিমা বেগমের বাবা মন্নান খাকী বলেন, আমার মেয়েকে নিয়ে আটকে রেখে তিন লাখ টাকা দিতে বলে। আমি গরিব মানুষ। টাকা পাব কোথায়। মেয়ে ফোন দিলে পুলিশ নিয়ে মেয়ে ও নাতীকে উদ্ধার করি। আমি মামলা করেছি। মামলা তোলার জন্য এখন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি তুষার হোসেন ও সোলাইমান ছৈয়ালের বিচার চাই।
নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, মিরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় রহিমা বেগম ও তার ছেলে নিহাদ তামিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। অপহরণকারী তুষার হোসেন ও সোলাইমান ছৈয়ালকে গ্রেফতার করে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, রহিমা বেগমকে ধর্ষণ করেছে কিনা তা মেডিকেল রিপোর্ট পেলে বলতে পারবো।
ছগির হোসেন/এফএ/জেআইএম