ফতুল্লায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে যানচলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় রাস্তার ড্রেন নির্মাণ কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করায় প্রায় ৭/৮ মাস যাবৎ একটি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কয়েকটি এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে রাস্তার কাজ ঢিলেঢালাভাবে চলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢালী কনস্ট্রাকশনের মালিক নিজেকে স্থানীয় এমপির আস্থাভাজন দাবি করায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লার পঞ্চবটি থেকে ধর্মগঞ্জ সড়কের ড্রেনসহ আরসিসি ঢালাই কাজের জন্য সাড়ে ৯ কোটি টাকার টেন্ডার পায় ঢালী কনস্ট্রকশন নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে রাস্তার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি রাস্তা নির্মাণের আগে ড্রেন করার নাম করে ঢিলেঢালাভাবে খোঁড়াখুঁড়ি করে সময়ক্ষেপণ করছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করে তাদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি রাস্তাটির কাজ ঢিলেঢালাভাবে চললেও সদর উপজেলার এলজিআরডি’র প্রকৌশলী তারেকুজ্জামান রহস্যজনক কারণে কিছুই বলছেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
শীষমহলের সোহবান মিয়া জানান, পঞ্চবটি থেকে ধর্মগঞ্জ রাস্তাটি একটি ব্যস্ততম সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের কাজ করতে গিয়ে কিছু কিছু জায়গা খোঁড়াখুঁড়ি করে মাটি তুলে রাস্তায় রেখে দেয়া হয়েছে। যার কারণে রাস্তা দিয়ে কারখানার ভারী যানবাহন, ট্রাকসহ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রিকশাও চলাচল করতে পারছে না।

ধর্মগঞ্জ কলোনী এলাকার ব্যবসায়ী আলী আহম্মেদ জানান, পঞ্চবটি-ধর্মগঞ্জ রাস্তা দিয়ে অন্য জেলা থেকে এসে কোনো ব্যক্তি যদি এই সড়কে চলাচল করে তাহলে সে মনে করবে এই এলাকায় কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। যদি জনপ্রতিনিধি থাকতো তাহলে দীর্ঘ ৫ মাস যাবৎ রাস্তাটি এভাবে পড়ে থাকার প্রতিবাদ করতো। রাস্তাটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করতো।
এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান জানান, পঞ্চবটি-ধর্মগঞ্জ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশার কারণে এমপি শামীম ওসমান রাস্তাটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এজন্য ড্রেনসহ আরসিসিকরণে বিশ্ব ব্যাংকের অধীনে সিআরডিপির অর্থায়নে সাড়ে ৯ কোটি টাকার বরাদ্ধ দেয়া হয়। রাস্তাটির টেন্ডার পায় ঢালী কনস্ট্রকশন নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
তিরি আরও জানান, ঢালী কনস্ট্রকশন কাজ হাতে নেয়ার পর থেকেই ঢিলেঢালাভাবে কাজ করছে। অল্প কিছু লোক দিয়ে কাজ করার কারণে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এতে করে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে।
ঢালী কনস্ট্রাকশনের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. কায়েস মজুমদার কিছু সমস্যার কারণে কাজের ঢিলেঢালার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, রাস্তার কাজ নিয়ে আরসিসি ও বিটুমিন ঢালাই নিয়ে একটু ঝামেলা চলছিল। যার কারণে কাজ নিয়ে সমস্যা হয়েছে। আর ড্রেনের কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও একটু সমস্যা হয়েছে। কাজে ঢালী কনস্ট্রাকশনের কোনো গাফিলতি ছিল না।
তিনি আরও বলেন, কাজের বিষয় নিয়ে অনেক সমস্যা হয়, যা বলতে গেলে নিজেদের ক্ষতি হবে। যার কারণে বলতে পারি না। আশা করা হচ্ছে আগামী ৩ মাসের মধ্যে ড্রেন ও রাস্তার কাজ সম্পন্ন হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এলজিআরডি’র প্রকৌশলী তারেকুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করে অফিসে আসতে বলে ফোন কেটে দেন।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/জেআইএম