নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই, নজরদারি নেই বিএসটিআইয়ের


প্রকাশিত: ০৪:২৬ এএম, ১৬ জুন ২০১৭

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঝালকাঠির সেমাই কারখানাগুলোতে শেষ সময়ের উৎপাদনে ব্যস্ত শ্রমিকরা। রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন এ ব্যস্ততা বেড়েই চলছে। কিন্তু এসব কারখানার নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্যে তৈরি সেমাই কতটা স্বাস্থ্যসম্মত সেটাই দেখার বিষয়।

ঝালকাঠি থেকে উৎপাদিত এসব সেমাই প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। নিম্নমানের ডালডা আর পোড়া তেল দিয়ে ভাজা এই সেমাইয়ের মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআইয়ের কোনো নজরদারি বা তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

ঝালকাঠির ছোট বড় ৬টি কারখানায় ঈদ উপলক্ষে সেমাই তৈরি হচ্ছে। এসব কারখানায় নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। এরসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নিম্নমানের ডালডা ও পোড়া তেল। এভাবেই প্রতিদিন তৈরি করা হচ্ছে শত শত মন সেমাই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেমাই তৈরির সময় হাতে গ্লোবসও ব্যবহার করছে না শ্রমিকরা। তাই শরীরের ঘাম এ সেমাইয়ের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে অনায়েসেই। সেমাই তৈরির জন্য খামি (ময়দা দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করণ) রাখার ট্রের উপরে বসে-হাটাহাটি করে কাজ করছে শ্রমিকরা। ময়লা, গাদ ও দুর্গন্ধযুক্ত ট্রে এবং কাদাযুক্ত মেঝে পরিষ্কার করার কোনো উদ্যোগ নেই মালিক পক্ষের।

মালিক পক্ষ বলছে কয়েক দিনের বর্ষার কারণে এর চেয়ে কারখানা পরিষ্কার রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দাবি বিএসটিআই ও স্যানিটারি পরিদর্শক এলেও তাদের পরিবেশ ভালো থাকায় কোনো জরিমানা করা হয় না।

jhalakati

শহরের কলাবাগানে “মিনার”, কাঠপট্টিতে “জেদ্দা”, “কুলসুম”, “নুরানী”, পশ্চিম চাঁকাঠিতে “মক্কা” ও “মদিনা” সেমাই কারখানায় ব্যস্ত সময় পার করছে মালিক শ্রমিকরা। তৈরি সেমাই ঝালকাঠিসহ পার্শ্ববর্তী জেলায় সরবরাহও শুরু করেছে ইতোমধ্যে।

এ ব্যাপারে শহরের কলাবাগান এলাকার মিনার লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক সেলিনা কবির ও কাঠপট্টি এলাকার মদিনা লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক নান্নু মিয়া জানান, তাদের তৈরি এ সেমাই ঝালকাঠি ছাড়াও বরগুনা, পটুয়াখালি, তালতলি, আমুয়াসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। প্রতিবারের ন্যায় এবারও প্রস্তুতি ভালো।

তারা বলেন, সেমাইয়ের মণ্ড (খামি) তৈরি করতে একবারের বেশি ব্যবহৃত তেল কাজে লাগানো হয়। এছাড়া উপায় নেই। রমজানের শুরু থেকেই সেমাইয়ের প্রতি ব্যবসায়ীদের চাহিদা রয়েছে। ২০ রমজান থেকেই বেচাকেনার চাপ আরও বাড়বে। তবে তারা উৎকৃষ্টমানের তেল ও ডালডা দিয়ে সেমাই তৈরি করেন বিধায় বিএসটিআই এলেও জরিমানা করে না।

তারা আরো জানান, প্রতিবছর কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পায়, কিন্তু তারা সেমাইয়ের দাম বাড়াতে পারেন না। তাই প্রতিবছরই তাদের ব্যবসার পরিমাণ কমে আসছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঝালকাঠি জেলার সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা বলেন, সেমাই কারখানার পরিবেশ এবং তৈরি সেমাই স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা দেখতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কয়েকটি কারখানায় গিয়ে জরিমানাও করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন জানান, এখনও সেমাই কারখানাগুলোতে যাওয়া হয়নি। ২/১দিনের মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।