চকরিয়ায় এক সপ্তাহে ৮ জন অপহরণ : প্রশাসন নিরব
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ও তার সীমান্তবর্তী লামার পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ট্রাক চালক ও ব্যবসায়ীসহ ৮ জনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পর ছেড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
পাহাড়কাটা বালু বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারীরা আধিপত্যের অস্থিত্ব প্রমাণে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে ধারণা বোদ্ধা মহলের। এসব ঘটনা হরহামেশা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠিন কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দুর্বৃত্তরা।
এতে পাহাড়ি এ এলাকায় উদ্বিগ্ন সময় পার করছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা। তবে, অপরাধী সনাক্ত করণে রোববার থেকে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা।
গত শনিবার সকাল ৭টায় ফকিরাখোলা থেকে বালু আনতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর ভেন্ডিবাজার এলাকার মোহাম্মদ পেটানের ছেলে নাসির উদ্দিন কোম্পানি (৪৫), তার পিকআপ চালক ইব্রাহীম (৩২) ও চালকের ভাই হেলপার রুবেল (২৮) এবং পথচারী বান্দরবানের লামা উপজেলার হারগেজা পুরাতন হেডম্যান পাড়ার আদুই মারমার ছেলে মংসুপ্রু মারমা (২৫) ও মংয়ে মারমার ছেলে মংছায়ে (২২)।
অপহৃত পাঁচজনের মধ্যে পিকআপ মালিক-চালক-হেলপার তিনজন দেড়লাখ টাকা ও আদিবাসী দু’যুবক ৩০ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে একইদিন দিবাগত রাতে মুক্তি পায়।
অন্যদিকে গত ৭ মে সকালে খুটাখালীস্থ ন’র ফাঁড়ি নামক পাহাড়ি এলাকা থেকে বালু আনতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন তিন ট্রাক চালক। তারা হলেন, উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মমতাজ আহমদের ছেলে কফিল উদ্দিন (২২), একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম (২৩) ও বদরখালীর নুরুল আলম (২৮)।
৮ মে ভোররাতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা ছাড়া পায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া ও বান্দরবানের লামার সীমান্তবর্তী ফকিরাখোলা এলাকায় কাটা পাহাড়ের পাদদেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু বেচা-বিক্রি করে আসছেন ১৪-১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট। তাদেরকে টাকা দিয়ে বালি আনতে কিছু প্রভাবশালীর ‘প্রেসটিজে’ লাগায় তারা নিজেদের শ্রমিক পাঠিয়ে বালি লোড করতে চেষ্টা চালালে অপহরণের শিকার হচ্ছেন।
গত ৭ ও ১৬ মে অপহরণের ঘটনা এমনটি পরিস্থিতি দাঁড় করাচ্ছে।
সপ্তাহ পার না হতে এত সংখ্যক লোক অপহরণের শিকার হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তোড়জোড় দেখা যায়নি। কারা, কি কারণে অপহরণের পথ বেছে নিয়েছে এবং কোথায় মুক্তিপণের টাকা হাতবদল হচ্ছে অথবা আদৌ কোনো মুক্তিপণ দিতে হচ্ছে কি না এসব তথ্য বের করে আনার কোনো গরজ আইনপ্রয়োগকারির মাঝে নেই। ফলে, অপরাধিচক্র দিন দিন অপহরণকে ‘পুঁজি’ হিসেবে ধরে নিয়ে অপরাধি জোগাড় ও অপরাধ কর্ম বাড়াচ্ছে বলে ধারণা ভূক্তভোগীদের।
অপরদিকে, বালু আহরণ করতে গিয়ে অল্পদিনের ব্যবধানে ৮ জন অপহরণের শিকার ও মুক্তিপণে ছাড়া পাওয়ার বিষয় নানা মিডিয়ায় প্রচার পেলেও অবৈধ বালুর হাট ও পাহাড় কাটা থামছে না। বরং আরো পুরোদমে চলছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।
চকরিয়া ও লামা থানা পুলিশ অপহরণের ঘটনা স্বীকার করলেও মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়ার ঘটনা কৌশলে অস্বীকার করে এসেছে। এছাড়া এসব অপহরণ ঘটনায় মামলা না হওয়ায় অপহরণকারীরাও রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ অপহরণের তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা ভেবে দেখার মতো। যতটুকু মনে হচ্ছে, কোনো গ্রুপ নতুন করে অপরাধীদের জড়ো করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমরা অপহরণকারীদের হাত থেকে ফিরে আসা লোকজনের সাথে কথা বলছি। সে সূত্রধরে অপরাধী সনাক্তে কাজ করছে পুলিশের বিশেষ একটি দল।
সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/আরআইপি