কুতুবদিয়ার ধুরুং কলেজে যাত্রার শুরুতেই অনিয়ম


প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ০৬ জুলাই ২০১৭

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ধুরুং আদর্শ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অনিয়ম দিয়ে পথ চলা শুরু করেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে পাঠদানে প্রভাষক পদে জনবল নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন ও কাঙ্ক্ষিত সকল যোগ্যতা বিদ্যমান থাকার পরও নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন মুহাম্মদ আলী আজগর নামের এক প্রভাষক প্রার্থী।

তার স্থলে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যক্ষের নিকটাত্মীয় ও পরীক্ষায় দ্বিতীয় হওয়া মিশুল মোহাম্মদ সাইহাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজারের এক হোটেল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নিয়োগ বঞ্চিত মুহাম্মদ আলী আজগর। তিনি কুতুবদিয়ার নজরআলী মাতবর পাড়া গ্রামের মৃত মনির আহম্মদের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলী আজগর বলেন, কুতুদয়িার ধুরুং আদর্শ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়টি সম্প্রতি কলেজে উন্নীত হয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। এরপর কর্তৃপক্ষ কলেজ পর্যায়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়।

সে মতে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল কাগজপত্র পে-অর্ডারমূলে প্রেরণ করি। গত ২০ মার্চ কক্সবাজার সরকারি কলেজে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আমি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করি।

গেজেট অনুযায়ী পরীক্ষা কমিটি আমাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপারিশও করে। কিন্তু পরিচলনা কমিটির সভাপতি মনজুর আলম সিকদার ও অধ্যক্ষ মোর্শেদ আলম স্বজনপ্রীতির বশে অনৈতিকভাবে ফলাফল উপেক্ষা করেছেন। তারা মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় দ্বিতীয় হওয়া মিশুল মোহাম্মদ সাইহামকে আমার স্থলে নিয়োগ দেয়।

নিয়োগ পাওয়া সাইহাম অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোর্শেদ আলমের মামাত ভাই। নিয়মানুসারে এ প্রতিষ্ঠানে বিএড ও এমএড প্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়ার কথা। আমার দুটো প্রশিক্ষণই রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিএড ছাড়াই মিশুল মোহাম্মদ সাইহামকে নিয়োগ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চেয়েও কোনো সদুত্তর পাইনি। এসব বিষয় আমি জেলা প্রশাসককেও লিখিতভাবে অবহিত করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ মোর্শেদ আলম নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন সাইহাম তার মামাত ভাই এটি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, নতুন হিসেবে প্রতিষ্ঠানের বেতনে প্রভাষক রাখা হবে। যাকে নিলে প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল হবে সেরকম কাউকে নিয়োগ দেয়া বাঞ্চনীয় বলে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত করেছে। তবে এখনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

এমনটি হলে নিয়েগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার কী দরকার ছিল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নিয়ম পালনে আবেদনকারীদের একটু যাচাই করে দেখা হয়েছে। এটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। যাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।