আড়াই মাস নিখোঁজ ছিল ‘জঙ্গি’ রাশেদুন্নবী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৪:২৭ এএম, ১৮ জুলাই ২০১৭

গত রোববার ঢাকার আশুলিয়ার একটি জঙ্গি আস্তানা থেকে আত্মসমর্পণ করা ‘জঙ্গি’ মো. রাশেদুন্নবী ওরফে রাশেদের (২১) বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ উদাখালি গ্রামে। তার বাবা রেজাউল করিম হোমিও চিকিৎসক আর মা রিনা বেগম গৃহিণী।

রাশেদুন্নবী বগুড়া সদর উপজেলার সুত্রাপুর এলাকার রাবেয়া ক্লিনিকের পাশে আর এম (মফিজ পাগলার মোড়) ছাত্রাবাসে থাকতেন এবং বগুড়া সাইক ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজিতে পড়াশোনা করতেন।

Gaibanda

রাশেদুন্নবীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাশেদুন্নবীরা তিন বোন দুই ভাই। এর মধ্যে রাশেদুন্নবী চতুর্থ। বড় বোন রেহেনা খাতুন মানসিক প্রতিবন্ধী। অপর দুইবোন ইসমত আরা ও নাজমুন নাহারের বিয়ে হয়েছে। এ ছাড়া বড় ভাই রায়হান ইসলাম ঢাকার একটি কলেজে স্নাতোকোত্তর শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন।

রাশেদুন্নবী ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে পঞ্চম শ্রেণি ও ২০১৪ সালে একই উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জমিলা আক্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে তিনি বগুড়া সাইক ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজিতে ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে ডিপ্লোমা ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন কোর্সে ভর্তি হন।

গাইবান্ধা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ উদাখালি গ্রাম। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উদাখালিস্থ ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, রাশেদুন্নবী টিনসেড বাড়ির একটি কক্ষে থাকতেন। পরে খবর পেয়ে বাড়ি থেকে উঠানে বের হয়ে আসেন তার বাবা রেজাউল করিম।

তিনি জানান, রাশেদুন্নবী গত ১ মে বাড়ি থেকে চাল ও আড়াই হাজার টাকা নিয়ে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সে সময় সে বাড়িতে এসে তিন-চারদিন ছিল। তার প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা চলছিল। বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।

Gaibanda

রাশেদুন্নবীর বাবা আরও জানান, পরদিন ২ মে রাশেদুন্নবীর কলেজ থেকে ফোন আসে। তারা জানায়, রাশেদুন্নবী পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে। এরপর তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। সেদিনই আমি বগুড়া গিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারপর তারা রাশেদুন্নবীর সহপাঠী ছাত্রাবাসের এক ছেলেকে ডেকে নিয়ে আসলে আমি তার সঙ্গে ছাত্রাবাসে যাই।

সেখানে ছাত্রাবাসের মালিক আমাকে জানান, গত ১০ থেকে ১৫ দিন আগে দুইজন অপরিচিত ছেলে রাশেদুন্নবীর সঙ্গে থাকতো। এরপর তাদেরকে থাকতে নিষেধ করলে রাশেদুন্নবী তাদেরকে অন্য ছাত্রাবাসে থাকার জন্য নিয়ে যায়। তারপর থেকে সে নিখোঁজ হয়।

রেজাউল করিম আরও বলেন, পরে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।  এরপর ২২ মে বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি দেখতে পেয়ে রাশেদুন্নবীর খোঁজ পাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ উদাখালি গ্রামের কয়েকজন জানান, রাশেদুন্নবী এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। তার নামে কারো কোনো অভিযোগ নেই।

রাশেদুন্নবীর বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, রাশেদুন্নবীর নামে থানায় কোনো মামলা নেই।

গত রোববার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের চৌরাবালি গ্রামের জঙ্গি আস্তানা থেকে র্যাবের কাছে চারজন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। তাদের মধ্যে একজন রাশেদুন্নবী।

রওশন আলম পাপুল/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।