যৌন নিপীড়নের শিকার স্কুলছাত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ!


প্রকাশিত: ০৬:১০ এএম, ২৬ মে ২০১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও নগ্ন ভিডিও চিত্র ধারণ করে ইন্টারনেটে প্রকাশের পর তার লেখাপড়া এখন বন্ধ হতে চলেছে। পাশাপাশি যৌন নিপীড়নের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো নিপীড়কদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদকারীদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবার ও মামলার সাক্ষীরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে নাসিরনগর উপজেলার আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ওই ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বখাটে পল্লব ও তার চার সহযোগী মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক একটি ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং তার নগ্ন ভিডিও চিত্র ধারণ করে। তবে এপ্রিল মাসে নগ্ন ভিডিও চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় শালিসকারকরা সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য পরিবারটিকে আশ্বাস দেন।

নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত সুবিচার পাননি তারা। সর্বশেষ বিচারের আশায় গত ২২ এপ্রিল নাসিরনগর থানায় নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লিখিত অভিযোগ আমলে না নিয়ে নিজেদের মতো করে পর্নোগ্রাফি আইনে বখাটে পল্লবসহ তার সহযোগীদেরকে আসামি করে একটি মামলা রুজু করে। তবে পুলিশ এখনো পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এর ফলে নির্যাতনের শিকার মেধাবী ওই ছাত্রী এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পাশপাশি স্কুলে যেতে চাইলে প্রধান শিক্ষকও তাকে স্কুলে যেতে বারণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ওই ছাত্রীর লেখাপড়া এখন বন্ধ হতে চলেছে।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম এই অভিযোগ অস্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, নির্যাতিত ছাত্রী ও তার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই ওই ছাত্রীকে কিছুদিন বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। তবে সে ইচ্ছে করলেই যেকোন সময় স্কুলে আসতে পারবে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

এদিকে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ নিয়ে গত ২১ মে যৌন নিপীড়নকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয় মহিলা পরিষদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ প্রতিবাদকারী কয়েকজনকে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিবাদকারীরা।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে গত রোববার নাসিরনগর থানায় গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল কাদেরকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহরিয়ার আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং নির্যাতিত ছাত্রীকে স্কুলে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে দ্রুত মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে মেধাবি ওই ছাত্রীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

আজিজুল আলম সঞ্চয়/এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।