রড ছাড়াই কলেজ ভবন নির্মাণ, ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৮:৪২ এএম, ২৫ জুলাই ২০১৭

সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের নির্মাণাধীন ভবনের পিলারে রড না দেয়ার অভিযোগে প্রকৌশলী-ঠিকাদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ওসমানীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, সোমবার কলেজটির অধ্যক্ষ আবদুল মুকিত আজাদ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারনামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের উপ সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুষ্পা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাখাল দে, শাহ আলম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কাজি শাহ আলম, তাঁর সহকারী আবদুল কাইয়ুম ও লোকমান হোসেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এবং কলেজটির অধ্যক্ষ ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে গত শনিবার পরিদর্শন করেন। এ সময় এমপি এহিয়া দুটি পিলারের অংশ বিশেষ ভেঙে রড ব্যবহার না করার বিষয়টি দেখতে পান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি শাহ আলম, আবদুল কাইয়ুম ও লোকমানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। সোমবার তাদেরকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

কলেজটির অধ্যক্ষ আবদুল মুকিত আজাদ বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি পিলারে রড না দেওয়ার বিষয়টি দেখেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট কলেজটিতে চারতলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিল পুষ্পা কনস্ট্রাকশন। গত জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে ভবনের তিন ও চারতলার কাজ শুরু হয়। এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাহ আলম এন্টারপ্রাইজ।

ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি বলেন, দেশের বিভিন্নস্থানে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এ অবস্থায় আমার নির্বাচনী এলাকার এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ কেমন চলছে তা দেখতে যাই। সেখানে গিয়ে রড ছাড়াই ভবনের নির্মাণের বিষয়টি দেখি।

তিনি আরও বলেন, ভবনটির তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ ইতোমধ্যে শেষের পথে। আমরা দুটি পিলারের অংশ বিশেষ ভেঙে এ রকম পেয়েছি। অন্যগুলোতে না জানি কী আছে। বিষয়টি বের হতেই নির্মাণকাজের ঠিকাদারদের পুলিশে দিয়েছি। এর সঙ্গে নির্মাণ তদারককারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা জড়িত বলে আমার ধারণা।

এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি জানেন না জানিয়ে বলেন, কলেজ ভবনের নির্মাণকাজে কিছু অনিয়ম হচ্ছিল। ভবনের আসল কাজে অনিয়ম হয়নি। আমাদের না জানিয়ে ঠিকাদার কিছু কাজ করেছিল। যেখানে অনিয়ম হয়েছে, সেটি ভেঙে নতুন করে আবার কাজ করে দেয়া হবে।

ছামির মাহমুদ/এমএএস/পিআর