কুষ্টিয়ায় সড়ক সংস্কারের নামে চলছে হরিলুট
কুষ্টিয়ায় সড়ক মেরামতের নামে চলছে হরিলুট। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ৫০ কিলোমিটার বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজারও খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই তিন মহাসড়ক। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এসব মহাসড়কে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচলে বাধ্য হচ্ছে। সড়ক বিভাগের হিসেবে তিন সড়কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ৩২ জেলায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগের একমাত্র পথ এই মহাসড়ক। সড়ক বিভাগের হিসেব মতে এই মহাসড়কে প্রতিদিন ১১ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। এ কারণে এ মহাসড়ক দুইবঙ্গের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সরেজমিনে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কুষ্টিয়া অংশ ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার বুক জুড়ে বড় বড় গর্ত-খানাখন্দ। বিশেষ করে কুষ্টিয়া শহরের বারখাদা ত্রিমহোনী থেকে শুরু করে ভেড়ামারা ১১ মাইল পর্যন্ত এবং শহরের মজমপুর গেট থেকে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। এসব এলাকায় সড়কের প্রায় বেশিরভাগ কার্পেটিং উঠে সৃষ্ট গর্তে বৃষ্টির পানি জমায় যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণহানি।
এ সড়কে কথা হয় বাস চালক আমির হোসেনের সঙ্গে। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ভাই এসব নামেই জাতীয় মহাসড়ক, আসলে এই রাস্তার কোনো মা-বাপ নেই। জান হাতে করে গাড়ি চালাতে হয়।
ট্রাকচালক আই্য়ুব আলী বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ীর প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে, ভাড়া টেনে যে টাকা পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই গাড়ি মেরামতে খরচ হয়ে যাচ্ছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ প্রতি বছরই ছোটবড় সংস্কার কাজ করা হয়। মাত্র মাস খানেক আগে সড়কের বিভিন্ন অংশে সিলকোড দেয়া হয়। এখন তার কোন চিহ্ন নেই। এসব কাজে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা লুটপাট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
গত বুধবার সকাল থেকে বিধস্ত সড়ক মেরামতে নামে কুষ্টিয়া সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বড় গর্তগুলোতে ইট বালু ফেললেও ছোট গর্তগুলো সেভাবেই থেকে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে যানবাহনের চাকার আঘাতে এসব গর্ত বড় হতে সময় লাগবে না বলে জানান তারা
কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সওজের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংস্কার কাজ করেও ভাল রাখা যাচ্ছে না। ভারি যানবাহন চলায় সড়ক লোড নিতে পারছে না। বৃষ্টিতে চাকার আঘাতে সড়কে বড় বড় গর্ত হয়ে যাচ্ছে। আপাতত আমরা ইট বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করছি। আবহাওয়া ভাল হলে সংস্কার কাজ করা হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে গত ২ বছরে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংস্কারে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সর্বশেষ গত কয়েক মাস আগেও এ দুটি মহাসড়ক সংস্কার করা হয়। এছাড়া জরুরি মেরামতের কাজতো সারা বছর লেগেই আছে।
তবে এতো অর্থ ব্যয় করার পরও মাত্র ৭-৮ দিনের বৃষ্টিতে দুই মহাসড়কের এমন ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ঝরছে যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠে। এ ব্যাপারে কথা হয় বরিশালের ট্রাক চালক হাফিজ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাই শর্ষের ভিতর ভুত আছে, তা না হলে এতো টাকা খরচের পর মাত্র কয়কদিনের বৃষ্টিতে রাস্তার এমন দশা হতো না।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, অতি বৃষ্টিতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সংস্কার কাজ চলছে। আবহাওয়া ভাল হলে আমরা সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ স্থানগুলো যান চলাচলের উপযোগী করতে কাজ করবো।
আল-মামুন সাগর/এমএমজেড/এআরএস/এমএস