মোদি-হাসিনার হাতেই খুলছে কসবা সীমান্ত হাটের দ্বার


প্রকাশিত: ০৬:২৯ এএম, ৩১ মে ২০১৫

ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের চুক্তির আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীদের সুবিধার্থে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তাঁরাপুর সীমান্তে নির্মিত হয়েছে চতুর্থ `সীমান্ত হাট`। ইতোমধ্যে হাটের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর ফলে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে দু`দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দার।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৬-৭ জুন ভারতের প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি এই হাটের উদ্বোধন করবেন।

সীমান্ত হাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৪ সালের ২১ মে জেলার কসবা উপজেলার তাঁরাপুর সীমান্তের ২০৩৯ নং পিলার সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দু`দেশের যৌথ মালিকানায় সীমান্ত হাটের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়। ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীপাহিজলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী ডি.কে চাকমা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা বেগম।

বাংলাদেশের ৬৯.৬৬ শতাংশ ও ভারতের ৬৯.৬৬ শতাংশ ভূমিতে ভারত সরকারের ২ কোটি ৪৪ লাখ রুপি ব্যয়ে শুরু হয় সীমান্ত হাটের নির্মাণ কাজ। তিন মাসের মধ্যে হাটের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা পিছিয়ে পড়ে। তবে ইতোমধ্যে হাটের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছে সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জুনের প্রথম সপ্তাহেই খুলছে কসবা সীমান্ত হাট।

সূত্রে আরো জানা যায়, হাটের আশপাশের ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। প্রাথমিকভাবে হাটে ৫ কিলোমিটার এলাকায় বসবাসরত প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যকে পণ্য সামগ্রী ক্রয় করার জন্য পরিচয়পত্র দেয়া হবে। তবে হাটে যাওয়ার আগে ক্রেতা-বিক্রেতাকে অবশ্যই সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছ থেকে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া হাটের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।

প্রাথমিক পর্যায়ে হাটে ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৫০ জন ব্যবসায়ী স্থানীয় কৃষি পণ্য ছাড়াও দু`দেশের সরকার নির্ধারিত ১৬টি করে পণ্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। প্রতি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলবে হাটের কার্যক্রম। হাটে বাংলাদেশি ও ভারতীয় উভয় মুদ্রা দিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা লেনদেন করতে পারবেন। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটে একটি `মানি চেঞ্জার` বুথ থাকবে বলে জানিয়েছে সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কসবা সীমান্ত হাট উদ্বোধনের সম্ভাবনায় দু`দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা এখন আনন্দে উদ্বেলিত।

স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকায় কোনো হাট-বাজার না থাকায় অনেক দূর থেকে কষ্ট করে তাদের দৈনন্দিন বাজার-সদাই করতে হয়। এই সীমান্ত হাট চালু হলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি দু`দেশের মধ্যে পারস্পরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ ব্যাপারে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, হাটের ৯৫ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়ে গেছে, আমরা আশা করছি আগামী ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কসবা সীমান্ত হাটের উদ্বোধন করবেন। এই সীমান্ত হাট উদ্বোধনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি অনুযায়ী কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী, সুনামগঞ্জ সদরের ডলোরা এবং ফেনী ছাগলনাইয়ার পূর্ব মধুগ্রাম-ছয়ঘরিয়ার মধ্যবর্তী স্থানের সীমান্তে তিনটি সীমান্ত হাট উদ্বোধন করা হয়েছে।

এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।